বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ সোহাগ হাসান রানা
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ত্রিমুখী প্রেমের সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে মিরাজ বেপারী (২২) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ জুন পদ্মা দক্ষিণ মডেল থানাধীন সরলখার কান্দি এলাকায় নিজ বাড়িতে বিষপানে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
নিহত মিরাজ বেপারী ওই এলাকার আব্দুল রশিদ বেপারীর ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক, মানসিক চাপ এবং বিভিন্ন ঘটনার জেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা এলাকার আমিনপাড়া রোডের বাসিন্দা আহসান উল্লাহর মেয়ে হামিদা আক্তারের (১৭) সঙ্গে মিরাজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মিরাজের পরিবারের দাবি, সম্পর্ক চলাকালে হামিদা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে আর্থিকসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মিরাজ বিয়ের প্রস্তাব দিলে হামিদা ও তাঁর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন হামিদা ও তাঁর পরিবারের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করার পর মিরাজ বিষপান করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে একই তরুণীকে ঘিরে আরও একটি সম্পর্কের তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকার কালীগঞ্জ পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মো. বিকি ইসলাম দাবি করেছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে হামিদা আক্তারের সঙ্গে তাঁরও প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
বিকি ইসলামের অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে হামিদা তাঁর কাছ থেকেও আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৮ মে ২০২৬ সালে ঢাকার একটি আদালতে উভয়ের সম্মতিতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের মাত্র এক মাস তিন দিনের মাথায়, গত ২১ জুন, তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিকি ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হামিদা আক্তার ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেন। তাঁর দাবি, লিখিত অভিযোগ বা নিয়মিত আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে কাউকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ বা সতর্ক করা প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল বলেন, "হামিদা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে আমি বিকি ইসলামকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।" তবে কোনো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না কিংবা কোন আইনগত ক্ষমতাবলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, হামিদা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পদ্মা দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত হামিদা আক্তার, তাঁর পরিবার এবং বিকি ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য ও অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। বিষয়গুলো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক:-সোহেল রানা, সহ বার্তা সম্পাদিকা মিস্ রত্না আক্তার ★বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া★
ই-পেপার