
নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউ ইয়র্ক ৬ জুলাই, ২০২৬
জাতিসংঘের নিউ ইয়র্ক সদর দপ্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামনে সোমবার সকালে এক মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন ঘটনার অবতারণা হয়েছে। একজন তিব্বতি নাগরিক নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি জাতিসংঘের সামনের চত্বরে এসে অতর্কিতে নিজের গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দগ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিচয় সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া গেলেও, প্রাথমিক আলামত বলছে তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন।
মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা চীনের তিব্বত নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া 'জাতিগত ঐক্য আইন'-এর মাধ্যমে তিব্বতিদের কণ্ঠরোধ করার যে চেষ্টা চলছে, তা এই আত্মাহুতির নেপথ্যে একটি প্রধান কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিশ্ব যখন মানবাধিকারের কথা বলে, তখন জাতিসংঘের সামনে এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আজ কতটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, এই আত্মাহুতির ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ওপর এক ধরনের নৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও চীন বরাবরই এই বিষয়গুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ নীতি বলে দাবি করে আসছে, তবে এই ঘটনার ফলে তিব্বত ইস্যু আবারো বিশ্ব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জাতিসংঘ ও প্রভাবশালী দেশগুলো এখন চীনের ওপর কতটা কঠোর অবস্থান নিতে পারে, তা নিয়ে এখন কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
নিরাপত্তা ও তদন্ত
ঘটনার পর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) ইতিমধ্যে ঘটনার একটি তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে তিব্বতের নির্বাসিত সরকার ও আন্তর্জাতিক তিব্বতীয় সহায়তা গোষ্ঠীগুলো নিহতের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক: আসাদুজ্জামান লিয়ন, বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার★
ই-পেপার