বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম,টেকনাফ (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অপহরণের চেষ্টা, হামলা এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টেকনাফ উপজেলার খারাংখালী এলাকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এঞ্জেল কেয়ার একাডেমির অধ্যক্ষ মাস্টার নুরুল আমিন সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) সকালে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে একদল দুর্বৃত্ত তার ব্যবহৃত গাড়ির গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অপহরণের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে দা, কিরিচসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী নুরুল আমিন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং হাজী মোহাম্মদ হোছাইনের পুত্র। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিলেন। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় পরপর দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে লক্ষ্য করে এমন হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে খারাংখালী ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক: আসাদুজ্জামান লিয়ন, বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার★
ই-পেপার