মোঃ মহসিন রহমান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার এক স্কুলশিক্ষক মোবারক হোসেন। চার বছর আগে শখের বশে মাত্র পাঁচটি সিল্কি মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই ছোট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে বিরল ও বিদেশি জাতের মুরগির একটি সফল খামারে, যা স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
নিজ বাড়ির বসতঘরের পেছনের পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে খামারটি। বর্তমানে সেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাতের কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা এবং ক্ষুদ্রাকৃতির মালয়েশিয়ান সেরামাসহ বিভিন্ন দেশের বিরল প্রজাতির মুরগি পালন করা হচ্ছে।
খামারটিতে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের বিভিন্ন জাতের প্রায় কয়েক শতাধিক মুরগি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিল্কি, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, অস্ট্রালর্প, কাদাকনাথ, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল পুলিশ ক্যাপ, পাহাড়ি লাইজ্জাসহ মোট ২২টিরও বেশি প্রজাতি। এছাড়াও রয়েছে বিশেষ জাতের কোয়েল পাখি।
শুধু মুরগি পালন নয়, খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও করেছেন মোবারক হোসেন। ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে তিনি নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন। একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন তাঁর এই ব্যতিক্রমী খামার।
উদ্যোক্তা মোবারক হোসেন বলেন, “চার বছর আগে শখের বশে শুরু করা কাজই আজ দুটি খামারে রূপ নিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিচর্যা ও ধৈর্য থাকলে শৌখিন ও উন্নত জাতের মুরগি পালন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। আগ্রহীরা আমার খামারে এসে সরেজমিনে দেখতে পারেন। আমি তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।”
খামারটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী তরুণ ও শিক্ষিত বেকার যুবকরা আসছেন। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের মুরগি পালন এবং বাচ্চা উৎপাদনের কৌশল সম্পর্কে জেনে অনেকেই নিজেরাও খামার গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
খামার পরিদর্শনে আসা সিপন মিয়া বলেন, “এটি আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। একসঙ্গে এত বিদেশি জাতের মুরগি আগে কখনো দেখিনি। মোবারক হোসেন আমাদের এলাকার একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা। তাঁর সাফল্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।”
আরেক দর্শনার্থী জুবায়েদ বলেন, “খামারটি ঘুরে দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। জীবনে এত ধরনের মুরগি একসঙ্গে দেখিনি। মোবারক ভাইয়ের পরামর্শ নিয়ে আমিও ভবিষ্যতে একটি খামার করার পরিকল্পনা করছি।”
রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “স্কুলশিক্ষক মোবারক হোসেন বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির বিদেশি মুরগি পালন করছেন। অনলাইন ও অফলাইনে এসব মুরগি বিক্রি করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাঁর খামার দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহী হচ্ছেন, যা বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ, কৃমিনাশক ও ভ্যাকসিন সেবা প্রদান করা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শখ থেকে শুরু করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা মোবারক হোসেনের এই উদ্যোগ রায়পুরা এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাঁর সফলতা প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ছোট উদ্যোগও একসময় বড় সাফল্যে পরিণত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক: আসাদুজ্জামান লিয়ন, বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার★
ই-পেপার