মো. ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
বর্ষার প্রথম দফার বৃষ্টিতে চলনবিলে পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও জনজীবনে। দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ঐতিহাসিক চলনবিলে এখন ভিড় করছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক, দর্শনার্থী এবং ভক্ত-আশেকানরা। বিশেষ করে চলনবিলের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক তিশীখালী পীর ঘাসী দেওয়ান (রহ.)-এর মাজার শরিফে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার। মাজার চত্বরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। লোকসমাগম বাড়ায় প্রাণ ফিরে এসেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যেও। খাবার, খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে ভক্তদের ছোট-বড় দলে ভাগ হয়ে রান্না করতে দেখা যায়। মানত পূরণ উপলক্ষে কেউ খাসি, কেউবা মোরগ-মুরগি নিয়ে এসেছেন। রান্না শেষে শিন্নি হিসেবে তা উপস্থিত মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন তারা।
রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক বাবুল হাসান জানান, তিন মেয়ের পর ছেলে সন্তান হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং পীর সাহেবের মাজারে দোয়ার উদ্দেশ্যে মানত করেছিলেন। সেই মানত পূরণ করতে প্রায় ৫০-৫২ জন স্বজনকে নিয়ে পাবলিক বাসে সাতপুকুরিয়া হয়ে ভাড়ার নৌকায় মাজারে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন এক জোড়া খাসি।
একইভাবে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম থেকে আসা চামেলি বেগম বলেন, মেয়ের একটি মানত থাকায় দুটি মোরগ নিয়ে এসেছেন। মাজারেই রান্না করে শিন্নি হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করবেন।
বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। তিশীখালী মাজার এলাকার চানাচুর বিক্রেতা ঝড়ু মিয়া বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। শুক্রবার হওয়ায় ভিড় আরও বেশি ছিল এবং বিক্রিও বেশ ভালো হয়েছে।
চায়ের দোকানি চঞ্চল জানান, গত চার মাস তেমন বেচাকেনা ছিল না। এখন প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। বিলে পানি আরও বাড়লে ব্যবসা জমে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
যাত্রী পারাপারে ব্যস্ত শ্যালো নৌকার মাঝি সুজন আলী জানান, বর্তমানে সাতপুকুরিয়া থেকে তিশীখালী মাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করছেন। অনেক দর্শনার্থী আবার পরিবার নিয়ে ঘুরতে পুরো নৌকাই রিজার্ভ নিচ্ছেন।
সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, তিশীখালীর মাজার চলনবিলের একটি ঐতিহাসিক ও অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। সারা বছরই এখানে মানুষ জিয়ারতের জন্য আসেন। তবে বর্ষায় বিলের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরোপুরি বর্ষা শুরু হলে তিশীখালীর মাজারের পাশাপাশি সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্টের নৌকা ঘাটেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক: আসাদুজ্জামান লিয়ন, বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার★
ই-পেপার