স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী: রাজশাহীর বাগমারার গোবিন্দপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নিজেদের পছন্দের লোক রাখার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে বাগমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই অভিযোগে আগের দিন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে গোবিন্দপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে স্থানীয় চার ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা হলেন, ওই এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান, সাজেদুর রহমান, রাজু আহমেদ ও লিটন হোসেন। তারা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তাদের পছন্দের ব্যক্তি আবুল কাশেম মণ্ডলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা (৫২) তাদের জানান, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে এখনও সময় রয়েছে এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তাঁর এখতিয়ারের মধ্যে নয়। এ কথা শুনে অভিযুক্ত চার ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যালয় ছাড়তে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যান।
পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেন। নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে আজ শুক্রবার দুপুরে বাগমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “হুমকির পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে সাজেদুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাট গাঙ্গোপাড়ায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছিলেন। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে দু-একজন এর আগেও বিদ্যালয়ে এসে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের মধ্যে রাজু আহমেদ, লিটন হোসেনসহ অন্যরা বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ে গিয়ে আমাদের দাবি জানিয়েছি। কাউকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।”
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক: আসাদুজ্জামান লিয়ন, বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার★
ই-পেপার