প্রতিবেদক: মোঃ সোহেল
ঢাকা | ১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে রক্ষায় জাতীয় সংসদে গৃহীত ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ১৩ জুলাই বিলটি সংসদে পাস হলেও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকরিতা। বিলটি কার্যকর হওয়ার পর মাদকবিরোধী কার্যক্রম নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদকের শ্রেণিবিন্যাস ও আইনি কাঠামোর স্বরূপ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যকে তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যা আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে:
‘ক’ শ্রেণি: পপি গাছ, আফিম, কোকেন, হেরোইন, মরফিন ও ফেনটানাইলসহ উচ্চমাত্রার আসক্তিকর মাদক।
‘খ’ শ্রেণি: গাঁজা, ভাং, অ্যালকোহল মিশ্রিত বিভিন্ন পানীয় বা ঔষধ। বিশেষ করে যেসব পানীয়তে শূন্য দশমিক ২ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল বিদ্যমান, তা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
‘গ’ শ্রেণি: মিথানল ও তৎসংশ্লিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্য, স্পিরিট এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত নেশাজাতীয় পানীয়।
অ্যালকোহল ও পারমিট সংক্রান্ত অস্পষ্টতা নিরসন
মদ্যপানের আইনি বৈধতা ও এর অপব্যবহার নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মারুফ হাসান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যমান আইনে অমুসলিম নাগরিকদের জন্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে মদ্যপানের পারমিট বা লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ রয়েছে।
তবে মহাপরিচালকের স্পষ্ট বার্তা— "পারমিটের বাইরে গিয়ে বা লাইসেন্সবিহীন উপায়ে যে কোনো প্রকার মদ ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়ম বহির্ভূত যে কোনো কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে।"
অনলাইন প্লাটফর্ম ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা ও আইসের (ক্রিস্টাল মেথ) মতো মাদকের বিস্তার রোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। মাদক ব্যবসায়ী চক্রগুলো এখন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব মাদক কেবল শারীরিক ক্ষতিই নয়, বরং মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়, যা একটি দেশের মেধাবী প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন পাসই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মাঠ পর্যায়ে এর কঠোর ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন। বিশেষ করে অনলাইন প্লাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। ২০২৬ সালের সংশোধনী আইনটি কার্যকর হলে আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা নিশ্চিত হবে, যা সমাজকে একটি নিরাপদ বলয়ে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
জনস্বার্থে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিসীম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক:-সোহেল রানা, সহ বার্তা সম্পাদিকা মিস্ রত্না আক্তার ★বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া★
ই-পেপার