২৩ জুন স্বৈরাচারী ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কেক কাটার জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে গতকাল গ্রেফতার হয়েছেন মেজর (অব.) কাজী মৌসুমী। এই গ্রেফতারের পর পরই একদল তথাকথিত 'নিরপেক্ষ' বুদ্ধিজীবী তাঁর পক্ষে সস্তা সহানুভূতি আদায়ের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। তাদের মূল যুক্তি—তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের এক শহীদের স্ত্রী, ঘটনার সময় তাঁর সন্তানের বয়স ছিল তিন বছরের কম, আর একটি কেকের দামই বা কত!
কিন্তু আবেগ দিয়ে তো আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইন চলে না। প্রশ্নটি কেকের দামের নয়, প্রশ্নটি হলো আদর্শ এবং নৈতিকতার। রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ফ্যাসিবাদী সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যেকোনো ধরনের অর্থ জোগান দেওয়া যেমন আইনত অপরাধ, তেমনি তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও এক বিরাট হুমকিস্বরূপ। সেনাবাহিনীর মতো একটি শৃঙ্খলিত ও সম্মানজনক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেওয়ার পর, তাঁর কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁকে নিয়ে যারা আজ সহানুভূতির নাটক করছেন, তারা কি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণগুলো ভুলে গেছেন? এই মেজর মৌসুমী পরবর্তীতে বিয়ে করেন নাইমুজ্জামান মুক্তাকে, যিনি ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। যে দলটির হাত তাঁর প্রথম স্বামীর রক্তে রাঙানো, সেই দলেরই একজন নেতার সাথে তিনি শুধু সংসারই করেননি, বরং স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি যদি শুধু ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তবে হয়তো সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন হিসেবে মেনে নিত। কিন্তু নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অর্থায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে—ফ্যাসীবাদের প্রতি তাঁর আনুগত্য কতটা গভীর।
একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর খুব ভালো করেই জানার কথা ছিল যে, এই নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনরুত্থানের চেষ্টা একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। আর তিনি জেনে-বুঝে, সজ্ঞানে সেই চক্রান্তে অর্থায়ন করেছেন। এর সরল অর্থ দাঁড়ায়—তিনি শুধু তাঁর প্রথম স্বামীর হত্যাকারীদের সাথেই হাত মেলাননি, বরং জুলাই বিপ্লবের দেড় হাজার ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
যিনি গণহত্যাকারী ও স্বৈরাচারের প্রকাশ্য দোসর, তাঁর অতীত যতই ট্রাজিক হোক না কেন, বর্তমানের অপরাধের জন্য তাঁর প্রতি কোনো সহানুভূতির সুযোগ নেই। অপরাধী এবং ফ্যাসীবাদের সহযোগীদের বিচার হতেই হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক: আসাদুজ্জামান লিয়ন, বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার★
ই-পেপার