শিরোনাম: মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদ: ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’-এর নেপথ্যে শাহ আমানত সাবির
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা এবং বোমাবাজির প্রস্তুতির অভিযোগে সম্প্রতি আলোচনায় আসা ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (এফসিএস) নামক সংগঠনটির কর্মকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শাহ আমানত সাবিরের বয়স মাত্র ২৩ বছর, যার বাড়ি খুলনায়। মার্শাল আর্টের নামে তিনি গড়ে তুলেছিলেন তথাকথিত ‘শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী মার্শাল আর্ট’ কেন্দ্র।
কে এই শাহ আমানত সাবির?
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবির প্রায় সাত বছর ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট’-এর খুলনা শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি চাকরি ছাড়েন। সাবিরের দাবি, মিউজিক এবং মার্শাল আর্টের কিছু রীতিনীতি ইসলামি শরীয়াহর পরিপন্থী হওয়ায় তিনি আলাদা পথ বেছে নেন। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে মার্শাল আর্টের সাধারণ রীতিনীতি বাদ দিয়ে ‘শরিয়াহভিত্তিক’ কৌশলের কথা প্রচার করা হচ্ছিল।
পুলিশের তদন্ত ও ভয়াবহ অভিযোগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ভাষ্যমতে, এটি কোনো সাধারণ মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয়। মার্শাল আর্টের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা উপকরণ দিয়ে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। এমনকি পরীক্ষামূলক বোমা বিস্ফোরণের ভিডিও প্রমাণও পুলিশের হাতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ‘পটকার বারুদ’ দিয়ে হাতবোমা এবং পেট্রোল বোমা তৈরির চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের শঙ্কা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের উগ্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও বিদেশি কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি অর্থায়ন বা সদস্য সংগ্রহের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলছে না, তবে গোয়েন্দারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছেন। এদিকে, সংগঠনটির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর নগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ শাহের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অস্বীকৃতি ও হুমকি
গ্রেফতারের আগে থেকেই শাহ আমানত সাবির তার ফেসবুক প্রোফাইলে উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে সাবিরসহ ছয়জন গ্রেফতার হওয়ার পর, তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহল থেকে থানা ঘেরাওসহ নানান হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে পুলিশ। সিটিটিসি কর্মকর্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যারা এই উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে বা হুমকি প্রদান করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ঢাকা, খুলনা ও যশোরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, তদন্ত শেষ হলে এই নেটওয়ার্কের গভীরতা আরও পরিষ্কার হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল★ টেলিফোন:+8809638126318, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কাজী মোস্তফা রুমি ★ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা★বার্তা সম্পাদক:-সোহেল রানা, সহ বার্তা সম্পাদিকা মিস্ রত্না আক্তার ★বিজ্ঞাপন সম্পাদিকা: মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া★
ই-পেপার