Dhaka 3:22 am, Tuesday, 21 April 2026

নরসিংদীতে জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েবিএনপির দুই গ্রুপেরসংঘর্ষে আহত ৩ জন

নরসিংদীতেজুটব্যবসা নিয়ন্ত্রণনিয়েবিএনপিরদুইগ্রুপের সংঘর্ষেআহত৩জন

মোঃ মহসিন রহমান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী

নরসিংদীতে গার্মেন্টসের জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে তিন জন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বালুসাইর এলাকার হোম টেক্সটাইলের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।আহতরা হলো মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী জুট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪৫) সুমন (২৪) ও জুয়েল মিয়া (২৭)। তারা সবাই সাইফুল গ্রুপের সমর্থক। তাদের মধ্যে আহত সাইফুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার বিভিন্ন কাপড়ের কারখানার জুটের নিয়ন্ত্রণ ছিল মহিষাশুড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সমীরের হাতে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন বিএনপির কর্মী সাইফুল ইসলাম। আজ দুপুর আড়াইটার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মামুন মিয়া গ্রুপের লোকজন ওই এলাকার হোম টেক্সটাইল থেকে জুট মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় সাইফুলসহ তাঁর লোকজন বাঁধা দেয়। পরে নরসিংদী শহর থেকে কিছু লোকজন গিয়ে মামুনের পক্ষে সাইফুল ইসলাম গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিপেটা করে চলে যায়।আহত সাইফুলকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আহত অন্য দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
আহত সাইফুলের ভাই ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা জুট ব্যবসার জন্য বিভিন্ন কারখানাকে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মামুন ও তাঁর লোকজন কারখানা থেকে জুট নিয়ে যায়। আমার ভাই কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো কথাবার্তা ছাড়াই নরসিংদী শহর থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমার ভাই আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি পদক্ষেপ নেব।আহত জুয়েল মিয়া বলেন, আমরা হোম টেক্সটাইলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ মামুনের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার দাবি করছি।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ তছলিম উদ্দিন বলেন দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শনে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় এখানে পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেল আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে প্রসাশন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

নরসিংদীতে জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েবিএনপির দুই গ্রুপেরসংঘর্ষে আহত ৩ জন

Update Time : 09:21:49 pm, Monday, 18 November 2024

নরসিংদীতেজুটব্যবসা নিয়ন্ত্রণনিয়েবিএনপিরদুইগ্রুপের সংঘর্ষেআহত৩জন

মোঃ মহসিন রহমান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী

নরসিংদীতে গার্মেন্টসের জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে তিন জন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বালুসাইর এলাকার হোম টেক্সটাইলের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।আহতরা হলো মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী জুট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪৫) সুমন (২৪) ও জুয়েল মিয়া (২৭)। তারা সবাই সাইফুল গ্রুপের সমর্থক। তাদের মধ্যে আহত সাইফুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার বিভিন্ন কাপড়ের কারখানার জুটের নিয়ন্ত্রণ ছিল মহিষাশুড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সমীরের হাতে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন বিএনপির কর্মী সাইফুল ইসলাম। আজ দুপুর আড়াইটার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মামুন মিয়া গ্রুপের লোকজন ওই এলাকার হোম টেক্সটাইল থেকে জুট মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় সাইফুলসহ তাঁর লোকজন বাঁধা দেয়। পরে নরসিংদী শহর থেকে কিছু লোকজন গিয়ে মামুনের পক্ষে সাইফুল ইসলাম গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিপেটা করে চলে যায়।আহত সাইফুলকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আহত অন্য দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
আহত সাইফুলের ভাই ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা জুট ব্যবসার জন্য বিভিন্ন কারখানাকে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মামুন ও তাঁর লোকজন কারখানা থেকে জুট নিয়ে যায়। আমার ভাই কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো কথাবার্তা ছাড়াই নরসিংদী শহর থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমার ভাই আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি পদক্ষেপ নেব।আহত জুয়েল মিয়া বলেন, আমরা হোম টেক্সটাইলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ মামুনের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার দাবি করছি।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ তছলিম উদ্দিন বলেন দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শনে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় এখানে পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেল আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে প্রসাশন।