Dhaka 3:00 pm, Friday, 1 May 2026

শ্রীপুরে বৃষ্টি হলেই স্কুলমাঠে হাটু পানি,খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকাল

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপুর বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা এলাকার মাওনা জে. এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সামান্য বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে যায়। প্রতি বছরেই বর্ষায় এ সমস্যা চলে। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েও জলাবদ্ধতার সমাধান মেলেনি। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিন পাশের স্কুলের সামনে বৃষ্টির পানি জমে থইথই করছে। দেখে মনে হবে পুকুর কাটা হয়েছে। স্কুলের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও ছোটাছুটি করছে। গত তিন দিনের বৃষ্টির পানি মাঠে জমে এ অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থী খেলা করছে। এক শিক্ষার্থী দৌড়াতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও শ্রাবণ বলেন, স্কুলের মাঠে পানি জমে থাকার কারণে চলাফেরা ও খেলাধুলা করতে পারি না। স্কুলের বারান্দায় খেলতে গেলেও অনেকে এক সাথে দৌড়াইতে পারি না। বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে বের হতে পারে না। আসা যাওয়ার সময় কেউ না কেউ পা পিছলে পড়ে যায়। তখন পোশাক, বইখাতা সবকিছু ভিজে যায়। আর মাঠে পানির জন্য খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকাল। আমরা চায় মাঠের জলাবদ্ধতার দ্রুত সমাধান হোক। মাঠে খেলতে চায়, দৌড়ঝাঁপ করতে চায়।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, আশপাশের কয়েক এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাঠ। মাঠটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার করা হয় না। পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মাঠে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি বেড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ১৮ জন। প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও। মাঠটির দক্ষিণ পাশের জমি নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে যায়। তিন বছর ধরে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর পুরো বর্ষা মৌসুম মাঠে পানি থাকে। কাদা পানির জন্য শিক্ষার্থীরা অ্যাসেম্বলি ও শরীরচর্চা করতে পারে না। এতে স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মাওনা জে. এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, আমি ৩ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শ্রীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, আশপাশের বসতবাড়ী নির্মাণ হওয়ায় এবং স্কুলের চারপাশের চলাচলের রাস্তা উঁচু হওয়ার কারনে মাঠ নিচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পনি জমে থাকে। ইতোমধ্যে মাঠ ভরাটের জন্য শ্রীপুর পৌরসভা থেকে টেন্ডার হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নহিদ ভূঁইয়া বলেন, মাওনা জে. এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শ্রীপুরে বৃষ্টি হলেই স্কুলমাঠে হাটু পানি,খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকাল

শ্রীপুরে বৃষ্টি হলেই স্কুলমাঠে হাটু পানি,খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকাল

Update Time : 11:37:54 pm, Thursday, 30 April 2026

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপুর বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা এলাকার মাওনা জে. এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সামান্য বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে যায়। প্রতি বছরেই বর্ষায় এ সমস্যা চলে। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েও জলাবদ্ধতার সমাধান মেলেনি। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিন পাশের স্কুলের সামনে বৃষ্টির পানি জমে থইথই করছে। দেখে মনে হবে পুকুর কাটা হয়েছে। স্কুলের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও ছোটাছুটি করছে। গত তিন দিনের বৃষ্টির পানি মাঠে জমে এ অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থী খেলা করছে। এক শিক্ষার্থী দৌড়াতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও শ্রাবণ বলেন, স্কুলের মাঠে পানি জমে থাকার কারণে চলাফেরা ও খেলাধুলা করতে পারি না। স্কুলের বারান্দায় খেলতে গেলেও অনেকে এক সাথে দৌড়াইতে পারি না। বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে বের হতে পারে না। আসা যাওয়ার সময় কেউ না কেউ পা পিছলে পড়ে যায়। তখন পোশাক, বইখাতা সবকিছু ভিজে যায়। আর মাঠে পানির জন্য খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকাল। আমরা চায় মাঠের জলাবদ্ধতার দ্রুত সমাধান হোক। মাঠে খেলতে চায়, দৌড়ঝাঁপ করতে চায়।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, আশপাশের কয়েক এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাঠ। মাঠটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার করা হয় না। পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মাঠে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি বেড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ১৮ জন। প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও। মাঠটির দক্ষিণ পাশের জমি নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে যায়। তিন বছর ধরে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর পুরো বর্ষা মৌসুম মাঠে পানি থাকে। কাদা পানির জন্য শিক্ষার্থীরা অ্যাসেম্বলি ও শরীরচর্চা করতে পারে না। এতে স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মাওনা জে. এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, আমি ৩ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শ্রীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, আশপাশের বসতবাড়ী নির্মাণ হওয়ায় এবং স্কুলের চারপাশের চলাচলের রাস্তা উঁচু হওয়ার কারনে মাঠ নিচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পনি জমে থাকে। ইতোমধ্যে মাঠ ভরাটের জন্য শ্রীপুর পৌরসভা থেকে টেন্ডার হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নহিদ ভূঁইয়া বলেন, মাওনা জে. এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।