Dhaka 3:20 am, Tuesday, 21 April 2026

রাজারহাট উপজেলায় ৩ ফুট উচ্চতার আদুরী ও মমিনূলের প্রেম ঝুঁটির বিয়ে ৬ বছরে পূর্ণ

রাজারহাট উপজেলায় ৩ ফুট উচ্চতার আদুরী ও মমিনূলের প্রেম ঝুঁটির বিয়ে ৬ বছরে পূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক সালমা দেওয়ান

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের মৌ-লোভী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম (২৯) বছর ও আদুরী বেগম(২৬) বছর।শারীরিক গঠনে উচ্চতা কম হওয়ায় পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছে হতে সইতে হয়েছে নানা কটাক্ষের শিকার। পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়েও সম্ভব হয়নি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠা তাদের। কিন্তু পড়াশোনা বা চাকরি করে সফল না হলেও ভালোবেসে বিয়ে করে সুখে সংসারে সফল হয়েছেন তাঁরা দুজনেই। একজন যেন আরেকজনের পরিপূর্ণ শরীরের অংঙ্গ প্রতংঙ্গ। হাজারো দুঃখ কষ্ট, অনাহারে অর্ধাহারে থেকেও ছেড়ে যাননি এক জন অন্যে জনের হাত। মমিনুল-আদুরী দম্পত্তির ভালোবাসারই বিয়ের এমন জুটি এখন এই এলাকায় ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। হাজারো মতের গড়মিল,মানুষের কটাক্ষ ভাষায় কথা বলে সমাজের অনেকই হেয় চোখে তাকানোসহ কোনোকিছুই ফাটল ধরাতে পারেনি মমিনুল-আদুরী দম্পতির সুখের সংসারে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ওমরমজিদ ইউনিয়নের মৌ-লোভী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম(২৯) ও আদুরী বেগম(২৫)। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১৮ তারিখে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। দুজনের উচ্চতাই প্রায় ৩ ফুট। খর্বাকৃতি হওয়ায় কারণে দুজনকেই শুনতে হয়েছে সমাজের মানুষের তিরষ্কার ও কটুক্তি সূলভ কথা। কিন্তু সেসব কথায় পাত্তা না দিয়ে একে অপরকে ভালোবেসে একসঙ্গে পার করে দিয়েছেন ৬ বছরেরও বেশি সময়। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,তারা শুধুমাত্র দেখতে খাটো, এটিই তাদের একটি অপূর্ণতা। তাছাড়াও সবার জীবনেই একটা না একটা সমস্যা থাকে। তাদের জীবনে এরকম টাই হয়েছে। তবে তাদের যে মিল-মহব্বত আমরা দেখতে পাচ্ছি গ্রামের সকলের তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমরা তাঁদের দুজনের মাঝে কখনো কোনোদিন ঝগড়া বা মন্য মালিন্য, এমনকি তাদের সমস্যার জন্য কাউকে দায়ী করতে দেখিনি। তারা সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করে। তাদের মতো স্বামী-স্ত্রী যদি এদেশের প্রতিটা ঘরে হওয়া উচিত। আদুরী বেগম বলেন,সংসার মানে সমস্যা,ঝগড়া ও নানা ঝুট ঝামেলা নিয়েই বাঁচতে পারার নাম সুখী পরিবার। অনেক সময়ে ঝগড়া বা কথার কাঁটা কাঁটি হয়েছে, চিন্তা করে দেখুন এসব,ডুন্কু ঝামেলায় কখনো চিন্তাও করিনি তাকে ছেড়ে আমি চলে যাবো।

আল্লাহ পাকের কাছে এই টুকুই আঁশা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমরা দুজন। মমিনুল ইসলাম বলেন,সৃষ্টিকর্তা আমাকে এভাবেই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি আমাকেও ভালো রেখেছেন, মানুষের কটু কথা শোনেও আমি পড়া লেখা চালিয়ে গেছি। তবে আর্থিক সচ্ছলতার কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারিনী আমি। তারপর থেকেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছি আমি। মায়ের দেওয়া ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছু নেই আমার। শুধু যে ঘরটিতে আমরা বসবাস করি সেটিই আমাদের স্থাবর সম্পত্তি। তারপরেও আমার স্ত্রী জীবন সংগ্রামে আমাকে সঙ্গী দিয়ে আসছে। কখনো সে আমাকে হতাশ গ্রহস্থ হতে দেয়নি, সবসময় আমাকে সার্পোট দিয়ে আসছে। এটাই আমাদের জীবনের বড় চাওয়া পাওয়া বলে আমি মনে করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

রাজারহাট উপজেলায় ৩ ফুট উচ্চতার আদুরী ও মমিনূলের প্রেম ঝুঁটির বিয়ে ৬ বছরে পূর্ণ

Update Time : 01:26:28 pm, Tuesday, 19 November 2024

রাজারহাট উপজেলায় ৩ ফুট উচ্চতার আদুরী ও মমিনূলের প্রেম ঝুঁটির বিয়ে ৬ বছরে পূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক সালমা দেওয়ান

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের মৌ-লোভী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম (২৯) বছর ও আদুরী বেগম(২৬) বছর।শারীরিক গঠনে উচ্চতা কম হওয়ায় পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছে হতে সইতে হয়েছে নানা কটাক্ষের শিকার। পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়েও সম্ভব হয়নি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠা তাদের। কিন্তু পড়াশোনা বা চাকরি করে সফল না হলেও ভালোবেসে বিয়ে করে সুখে সংসারে সফল হয়েছেন তাঁরা দুজনেই। একজন যেন আরেকজনের পরিপূর্ণ শরীরের অংঙ্গ প্রতংঙ্গ। হাজারো দুঃখ কষ্ট, অনাহারে অর্ধাহারে থেকেও ছেড়ে যাননি এক জন অন্যে জনের হাত। মমিনুল-আদুরী দম্পত্তির ভালোবাসারই বিয়ের এমন জুটি এখন এই এলাকায় ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। হাজারো মতের গড়মিল,মানুষের কটাক্ষ ভাষায় কথা বলে সমাজের অনেকই হেয় চোখে তাকানোসহ কোনোকিছুই ফাটল ধরাতে পারেনি মমিনুল-আদুরী দম্পতির সুখের সংসারে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ওমরমজিদ ইউনিয়নের মৌ-লোভী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম(২৯) ও আদুরী বেগম(২৫)। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১৮ তারিখে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। দুজনের উচ্চতাই প্রায় ৩ ফুট। খর্বাকৃতি হওয়ায় কারণে দুজনকেই শুনতে হয়েছে সমাজের মানুষের তিরষ্কার ও কটুক্তি সূলভ কথা। কিন্তু সেসব কথায় পাত্তা না দিয়ে একে অপরকে ভালোবেসে একসঙ্গে পার করে দিয়েছেন ৬ বছরেরও বেশি সময়। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,তারা শুধুমাত্র দেখতে খাটো, এটিই তাদের একটি অপূর্ণতা। তাছাড়াও সবার জীবনেই একটা না একটা সমস্যা থাকে। তাদের জীবনে এরকম টাই হয়েছে। তবে তাদের যে মিল-মহব্বত আমরা দেখতে পাচ্ছি গ্রামের সকলের তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমরা তাঁদের দুজনের মাঝে কখনো কোনোদিন ঝগড়া বা মন্য মালিন্য, এমনকি তাদের সমস্যার জন্য কাউকে দায়ী করতে দেখিনি। তারা সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করে। তাদের মতো স্বামী-স্ত্রী যদি এদেশের প্রতিটা ঘরে হওয়া উচিত। আদুরী বেগম বলেন,সংসার মানে সমস্যা,ঝগড়া ও নানা ঝুট ঝামেলা নিয়েই বাঁচতে পারার নাম সুখী পরিবার। অনেক সময়ে ঝগড়া বা কথার কাঁটা কাঁটি হয়েছে, চিন্তা করে দেখুন এসব,ডুন্কু ঝামেলায় কখনো চিন্তাও করিনি তাকে ছেড়ে আমি চলে যাবো।

আল্লাহ পাকের কাছে এই টুকুই আঁশা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমরা দুজন। মমিনুল ইসলাম বলেন,সৃষ্টিকর্তা আমাকে এভাবেই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি আমাকেও ভালো রেখেছেন, মানুষের কটু কথা শোনেও আমি পড়া লেখা চালিয়ে গেছি। তবে আর্থিক সচ্ছলতার কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারিনী আমি। তারপর থেকেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছি আমি। মায়ের দেওয়া ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছু নেই আমার। শুধু যে ঘরটিতে আমরা বসবাস করি সেটিই আমাদের স্থাবর সম্পত্তি। তারপরেও আমার স্ত্রী জীবন সংগ্রামে আমাকে সঙ্গী দিয়ে আসছে। কখনো সে আমাকে হতাশ গ্রহস্থ হতে দেয়নি, সবসময় আমাকে সার্পোট দিয়ে আসছে। এটাই আমাদের জীবনের বড় চাওয়া পাওয়া বলে আমি মনে করছি।