
সাংবাদিকের সহযোগিতায় নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পরে ৯ বছরের কন্যা কে ফিরে পেল পরিবার
এম ইয়াকুব হাসান অন্তর,লাখাই
ঢাকা থেকে নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর হবিগঞ্জ লাখাই উপজেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৯ বছরের বয়সী এক গৃহকর্মী শিশু ।
শনিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সাংবাদিক পারভেজ হাসানের বাড়ি থেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গৃহকর্মী হালিম মিয়া(৯) ঢাকা জেলার খিলগাঁও থানাধীন এলাকার অ্যাডভোকেট মোঃ তোকির আহমেদ ভূঁইয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড ফাইজুর তাসনিন এর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো বলে জানা যায়।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটের সময় ঢাকা রামপুরা ব্রিজের পাশে গৃহকর্মী শিশু হালিম কে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পায় ঢাকা থেকে লাখাই ছেড়ে আসা বাসের যাত্রীরা।পরে তার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে শিশু হালিম মিয়া জানায় সে এক অ্যাডভোকেটের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে,সেখানে এডভোকেট তাকে প্রতিনিয়ত মারধর করে, এজন্য সে পালিয়েছে । কিন্ত হালিম শুধুমাত্র তার থানার নাম বলতে পারলেও পরিবারের কারও মোবাইল নাম্বার বলতে পারছিল না। পরে সে বাড়ি যাওয়ার জন্য ওই বাসে উঠে পড়ে। ওই বাসে করে সকালে বুল্লা বাজার বাস স্টেশনে এসে বাস থেমে যায়।পড়ে বাসে থাকা যাত্রী মোঃ আরিফ মিয়ার সাথে আরিফের বাড়িতে চলে যায়।পরে আরিফ মিয়া সাংবাদিক পারভেজ হসানকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে সাংবাদিক পারভেজ আসেন।
এ সময় গৃহকর্মী হালিম মিয়া বলে আমাকে ১ হাজার টাকা দিয়ে আলু এবং দুধ কিনে নেওয়ার জন্য নিচে পাঠিয়েছে। আমি আলো এবং দুধ কিনে নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর, ছোট আলু কিনে এনেছি বলে এডভোকেট তোকীর আহমেদ ভূঁইয়া আমাকে মারধর করে। এবং আমাকে বড় আলো নিয়ে যেতে বলে। পরে আমি বড় আলু নেওয়ার জন্য নিচে আসলে সেখান থেকে পালিয়ে আসি।তারপর আমি রামপুরা থেকে লাখাইয়ের বাসে উঠে এখানে আসি।হালিম মিয়ার গলায় বিভিন্ন আহত চিহ্ন দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে তাকে মারধর করেছে তার মালিক অ্যাডভোকেট তোকির আহমেদ ভূঁইয়া।হালিম আরো বলেন প্রতিনিয়তই তাকে মারধর করে এডভোকেট তোকির আহমেদ ভূঁইয়া।এমনকি তার বাড়িতে কথা বলতেও দেয় না তার মালিক। তাৎক্ষণিক সাংবাদিক লাখাই থানা ওসি তদন্তকে ফোন দিলে তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। শনিবার উপজেলা সমাজসেবা অফিস বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপায় অন্তুর না পেয়ে গুগল ঘাটাঘাটি শুরু করে একপর্যায়ে পেয়ে যান কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী থানার মোবাইল নাম্বার। এরপর সেই কটিয়াদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোঃ তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে ও তার সহযোগিতায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ঘাটাঘাটি করে গৃহকর্মী শিশু হালিম মিয়ার পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যায়।পরে সাংবাদিক পারভেজ হাসান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিবলীজ্জামান কে বিষয়টি অবগত করেন।সাংবাদিক পারভেজ হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হালিমের বড় ভাই তাওহীদ মিয়া এবং মামা মিজানুর রহমান লাখাই আসলে উপজেলা শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী শাহজাহান আহমেদকে নিয়ে গৃহকর্মী হালিমকে তাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।এ সময় জানাযায় গৃহকর্মী হালিম মিয়া কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী উপজেলার লোহা জুড়ী কুড়ের পার গ্রামের আলামিনের পুত্র।
এব্যাপারে গৃহকর্মী হালিমের মামা ও বড় ভাই জানান আমরা আমাদের হালিমকে ফিরে পেয়ে খুবই আনন্দিত।
এ ব্যাপারে এডভোকেট তোকির আহমেদ ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন গতকাল ১২ টা থেকে আমরা হালিমকে খুজে পাচ্ছি না।এ ব্যাপারে আমি ঢাকা খিলগাঁও রামপুর থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি। শিশু হালিম কে মারদূর করার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।তিনি বলেন আমি হালিমের সাথে ওই ধরনের কাজ করিনি।
Reporter Name 



















