Dhaka 12:36 am, Sunday, 28 June 2026

উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: আব্দুলপুর–সান্তাহার–পার্বতীপুরে নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:-ই,ক,ম,জে,ডি উজ্জ্বল

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও সক্ষম করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান আব্দুলপুর–সান্তাহার–পার্বতীপুর ডুয়েলগেজ রেলপথের সমান্তরালে নতুন একটি ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (Environmental Impact Assessment–EIA) কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে বগুড়ার সান্তাহারে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এলাকার বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি, বসতভিটা, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে এনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা আরও সহজ ও দ্রুত হবে এবং ভবিষ্যতে আন্তঃজেলা ও আন্তঃসীমান্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমে আসবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, কারিগরি বিশ্লেষণ এবং সরকারি অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাজশাহী মোহনপুরে আম নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১

উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: আব্দুলপুর–সান্তাহার–পার্বতীপুরে নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তুতি

Update Time : 06:22:55 pm, Friday, 26 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:-ই,ক,ম,জে,ডি উজ্জ্বল

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও সক্ষম করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান আব্দুলপুর–সান্তাহার–পার্বতীপুর ডুয়েলগেজ রেলপথের সমান্তরালে নতুন একটি ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (Environmental Impact Assessment–EIA) কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে বগুড়ার সান্তাহারে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এলাকার বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি, বসতভিটা, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে এনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা আরও সহজ ও দ্রুত হবে এবং ভবিষ্যতে আন্তঃজেলা ও আন্তঃসীমান্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমে আসবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, কারিগরি বিশ্লেষণ এবং সরকারি অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।