
নিজস্ব প্রতিনিধি | জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দায়ের হওয়া একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মামলার বাদী নুরুজ্জামান।
আবেদনপত্র ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের মোজাহিদপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জ মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা (নং-১৪/২০২৬) দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬ ও ৭ ধারায় মামলা (নং-১২) এবং জিআর নং-১১৮ হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূর হোসেন মামলার আসামিদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন, যার কারণে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নম্বর আসামি সিলেটের জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিপন আহমদ এবং ৪ নম্বর আসামি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উত্তর সুরিয়ারপাড় এলাকার ফজলুর রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিদেশে, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া একাধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন আক্রোশমূলক পোস্টের মাধ্যমে তার মানহানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, ১ নম্বর আসামির ছোট ভাই দীর্ঘদিন জগন্নাথপুর থানায় মুন্সী হিসেবে কর্মরত থাকায় সেই সূত্রে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড নিজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদী।
এর আগে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে স্থানান্তরের আবেদন করা হলে ৩০ জুলাই জগন্নাথপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একটি প্রতিবেদনে থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দোষ উল্লেখ করেন। তবে বাদীর ভাষ্য, ওই প্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রধান দুই আসামি বর্তমানে সিলেট, দিরাই, জগন্নাথপুর ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে বাদী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে মামলার সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইজিপি ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাদী নুরুজ্জামান।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Reporter Name 














