Dhaka 6:08 pm, Sunday, 28 June 2026

দেশে ফিরেই বউকে‘হাতে নাতে’ধরা-খুলনার হাদিস পার্কে.

নিজস্ব প্রতিনিধি মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
কাতারে ৫ মাস কাটিয়ে দেশে ফিরেই বউকে ‘হাতে নাতে’ ধরার ঘটনা ঘটেছে খুলনার হাদিস পার্কে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেরখাদা-ডুমুরিয়ার দুই পরিবারসহ পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী স্বামী আব্দুর রহমানের বাড়ি তেরখাদা উপজেলায়। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম নওশাদ ইসলাম ববি, বাড়ি ডুমুরিয়া, খুলনা। তাদের ২.৫ বছরের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে।

আব্দুর রহমানের দাবি, দালালের ফাঁদে পড়ে ভালো কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভনে তিনি কাতারে পাড়ি জমান। এজন্য দালালকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দিতে হয়। তার অভিযোগ, কাতারে যাওয়ার পর দালাল আর কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

সেখানে ৫ মাস কষ্ট করে, বাড়ি থেকে সুদে ঋণ করে টিকিট কেটে সম্প্রতি দেশে ফেরেন আব্দুর রহমান। বউকে ‘হাতে নাতে’ ধরার উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি বাসায় না গিয়ে হাদিস পার্কে এসে বসে ছিলেন বলে দাবি করেন।

আব্দুর রহমানের অভিযোগের মূল অংশ—তার ৫ মাস অনুপস্থিতির সুযোগে স্ত্রী নওশাদ ইসলাম ববি ২.৫ বছরের বাচ্চা রেখে অন্য একজনের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করেন। একপর্যায়ে তাকে না জানিয়েই ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে বিয়ে করে সংসার করছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তার নামে উল্টাপাল্টা মামলা করার চেষ্টার অভিযোগও আনেন।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তিনি হাদিস পার্কে অবস্থান নেন এবং স্ত্রীকে সেখানে দেখতে পান বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষের অফিসিয়াল মামলা বা জিডির কপি পাওয়া যায়নি। ডিভোর্স, পুনঃবিবাহ, পরকীয়া ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ—সবই এক পক্ষের বক্তব্য। অপর পক্ষের বক্তব্য ছাড়া কোনো কিছুই চূড়ান্ত সত্য বলা যাচ্ছে না।

আইনজীবীরা বলছেন, ডিভোর্স ও পুনঃবিবাহের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, পরকীয়ার অভিযোগের প্রমাণ আছে কি না—তা তদন্ত সাপেক্ষ। আর মিথ্যা মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাল্টা আইনি ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে অসহায় এই ২.৫ বছরের শিশুটি। মা-বাবার দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে তার ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। পারিবারিক কলহে শিশুদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়—এটা আবারও সামনে এলো।

হাদিস পার্কের এই ঘটনা মুহূর্তে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘বউ কট’ শব্দে মানুষ হাসছে, ট্রল করছে। কিন্তু একটা পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, একটা শিশু এতিমের মতো হয়ে যাচ্ছে।

কঠিন ভায়া বলতে হয়—প্রবাসীর টাকা, দালালের প্রতারণা, স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামীর ক্ষোভ—সব মিলিয়ে এটা শুধু একটা ‘পার্কের ঘটনা’ না। এটা আমাদের সমাজের অসুখ।

পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে দাবি—দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে, প্রমাণ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর আমরা যেন আবেগে ভেসে কাউকে ‘চরিত্রহীন’ বা ‘প্রতারক’ ট্যাগ না দিই, যতক্ষণ না আদালত বা তদন্তে সত্য বের হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সংবাদ প্রচারের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত-হুমকি ফায়ার সার্ভিসের দুর্নীতিবাজ সাদ্দাম ও রাব্বির

দেশে ফিরেই বউকে‘হাতে নাতে’ধরা-খুলনার হাদিস পার্কে.

Update Time : 01:53:24 pm, Sunday, 28 June 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
কাতারে ৫ মাস কাটিয়ে দেশে ফিরেই বউকে ‘হাতে নাতে’ ধরার ঘটনা ঘটেছে খুলনার হাদিস পার্কে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেরখাদা-ডুমুরিয়ার দুই পরিবারসহ পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী স্বামী আব্দুর রহমানের বাড়ি তেরখাদা উপজেলায়। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম নওশাদ ইসলাম ববি, বাড়ি ডুমুরিয়া, খুলনা। তাদের ২.৫ বছরের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে।

আব্দুর রহমানের দাবি, দালালের ফাঁদে পড়ে ভালো কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভনে তিনি কাতারে পাড়ি জমান। এজন্য দালালকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দিতে হয়। তার অভিযোগ, কাতারে যাওয়ার পর দালাল আর কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

সেখানে ৫ মাস কষ্ট করে, বাড়ি থেকে সুদে ঋণ করে টিকিট কেটে সম্প্রতি দেশে ফেরেন আব্দুর রহমান। বউকে ‘হাতে নাতে’ ধরার উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি বাসায় না গিয়ে হাদিস পার্কে এসে বসে ছিলেন বলে দাবি করেন।

আব্দুর রহমানের অভিযোগের মূল অংশ—তার ৫ মাস অনুপস্থিতির সুযোগে স্ত্রী নওশাদ ইসলাম ববি ২.৫ বছরের বাচ্চা রেখে অন্য একজনের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করেন। একপর্যায়ে তাকে না জানিয়েই ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে বিয়ে করে সংসার করছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তার নামে উল্টাপাল্টা মামলা করার চেষ্টার অভিযোগও আনেন।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তিনি হাদিস পার্কে অবস্থান নেন এবং স্ত্রীকে সেখানে দেখতে পান বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষের অফিসিয়াল মামলা বা জিডির কপি পাওয়া যায়নি। ডিভোর্স, পুনঃবিবাহ, পরকীয়া ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ—সবই এক পক্ষের বক্তব্য। অপর পক্ষের বক্তব্য ছাড়া কোনো কিছুই চূড়ান্ত সত্য বলা যাচ্ছে না।

আইনজীবীরা বলছেন, ডিভোর্স ও পুনঃবিবাহের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, পরকীয়ার অভিযোগের প্রমাণ আছে কি না—তা তদন্ত সাপেক্ষ। আর মিথ্যা মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাল্টা আইনি ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে অসহায় এই ২.৫ বছরের শিশুটি। মা-বাবার দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে তার ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। পারিবারিক কলহে শিশুদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়—এটা আবারও সামনে এলো।

হাদিস পার্কের এই ঘটনা মুহূর্তে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘বউ কট’ শব্দে মানুষ হাসছে, ট্রল করছে। কিন্তু একটা পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, একটা শিশু এতিমের মতো হয়ে যাচ্ছে।

কঠিন ভায়া বলতে হয়—প্রবাসীর টাকা, দালালের প্রতারণা, স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামীর ক্ষোভ—সব মিলিয়ে এটা শুধু একটা ‘পার্কের ঘটনা’ না। এটা আমাদের সমাজের অসুখ।

পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে দাবি—দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে, প্রমাণ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর আমরা যেন আবেগে ভেসে কাউকে ‘চরিত্রহীন’ বা ‘প্রতারক’ ট্যাগ না দিই, যতক্ষণ না আদালত বা তদন্তে সত্য বের হয়।