Dhaka 3:34 pm, Friday, 24 April 2026

নীলফামারী ডোমারে পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:59:02 pm, Wednesday, 26 February 2025
  • 83 Time View

নীলফামারী ডোমারে পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা(নীলফামারী):

প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেখানে চাঁদাবাজ সেখানেই যুদ্ধ, যেখানেই দখল বাজ সেখানেই লড়াই। বাংলাদেশ দুর্নীতি এবং দুঃশাসন মুক্ত দেশ না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। এ জন্যই জামায়াতে ইসলামীর শ্লোগান আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ। বাংলাদেশ যদি ৫ আগষ্টের পর পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতো তালে এ শ্লোগান হতো না।
(বুধবার) ২৬ ফেব্রুয়ারি/২৫ বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডোমার উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মাঠে এক পথসভায় তিনি বক্তব্যই কথাগুলো বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডোমার উপজেলা আমীর খন্দকার আহমাদুল হক মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক (রংপুর -দিনাজপুর) মাওলানা আব্দুল হালিম, অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস ছাত্তার, সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল লোন্তাকিম। জলঢাকা উপজেলা আমীর মোখলেছার রহমান, ডিমলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ছাত্রশিবি নীলফামারীর জেলা সভাপতি তাজমিলুর রহমান, সাবেক ডোমার উপজেলা আমীর আব্দুল হাকিম প্রমূখ।
তিনি আরো বলেন, ৫ই আগষ্টের পর আমরা সাময়িক মুক্তি পেয়েছি। এই মুক্তকে আমরা স্থায়ী মুক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমরা চাই না এদেশে বার বার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক আর এদেশের মানুষকে লড়াই সংগ্রাম করে জীবন দিতে হবে। আমরা তা মোটেই চাই না। আমরা চাই আমাদের সন্তানদের ভাইদের রক্তের বিনিময়ে যে সাময়িক মুক্তি এসেছে এর মধ্য দিয়ে যেন ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হয়। আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে ৫৪বছর ধরে যে সমস্ত দল ক্ষমতায় ছিল তাদের শাসন আমল কেমন ছিল। তাদের মধ্য থেকে একটি দলকি বাংলাদেশকে দুঃশাসন এবং দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে পেরেছে। ৫ আগষ্ট পট পরিবর্তনের পর আগে যারা লুটেরা, চাঁদাবাজ,দখলদার,খুনি দুর্নীতিবাজ, হত্যাকারী তারা পালিয়েছে। এখন আমরা যারা আছি গত ১৫ বছরে যারা নির্যাতিত, অসংখ্য সহকর্মীকে হারিয়েছি। মানুষকে গুম করা হয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছে,অনেকে আহত হয়েছেন, সেই কষ্টের জনগনকে নিয়ে আমরা আছি। এই পরিবর্তনের দিনে আমরা দেশবাসী ও দলীয় কর্মীদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া যে আল্লাহতালা আমাদের বুকের উপর থেকে পাথর সরিয়ে দিয়েছেন। আসুন আমরা নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেই। আমরা ধৈর্য ধরি আমরা শান্ত থাকি এবং আমরা বাংলাদেশকে গঠন করার জন্য সর্ব শক্তি প্রয়োগ করি। কিন্তু আফসোস আগের চাঁদাবাজরা গিয়েছে এখন সর্বস্তরের মানুষ বলে শুধু হাত বদল হয়েছে। এখন চাঁদার রেট বেড়ে গেছে। এতগুলো মানুষ জীবন দিলো এতগুলো মানুষ রক্ত দিল তাদের জীবনের রক্তের কি কোন মুল্য নেই।
চাঁদাবাজের হাত বদল হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে ভোট দিতে হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারন তারাও গোটা বিশ্ব জুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অতি দ্রুত দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ভেঙে দেয়া হয়েছে। সেখানে কোন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি নেই। ফলে জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে। আমাদের রাজনীতি জনদুর্ভোগ বারানোর জন্য নয়। জন দুর্ভোগ কমাতে হবে। তাই অতিদ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দিতে হবে। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চাই, একটি দুঃশাসন মুক্ত বাংলাদেশ চাই। এই দেশ আমাদের সকলের দেশ। আমরা মেজরিটি মাইনোরিটি দেশ চাই না। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। একজন মুসলমান, একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ সবার সমান অধিকার চাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যু দন্ড

নীলফামারী ডোমারে পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান

Update Time : 08:59:02 pm, Wednesday, 26 February 2025

নীলফামারী ডোমারে পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা(নীলফামারী):

প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেখানে চাঁদাবাজ সেখানেই যুদ্ধ, যেখানেই দখল বাজ সেখানেই লড়াই। বাংলাদেশ দুর্নীতি এবং দুঃশাসন মুক্ত দেশ না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। এ জন্যই জামায়াতে ইসলামীর শ্লোগান আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ। বাংলাদেশ যদি ৫ আগষ্টের পর পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতো তালে এ শ্লোগান হতো না।
(বুধবার) ২৬ ফেব্রুয়ারি/২৫ বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডোমার উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মাঠে এক পথসভায় তিনি বক্তব্যই কথাগুলো বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডোমার উপজেলা আমীর খন্দকার আহমাদুল হক মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক (রংপুর -দিনাজপুর) মাওলানা আব্দুল হালিম, অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস ছাত্তার, সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল লোন্তাকিম। জলঢাকা উপজেলা আমীর মোখলেছার রহমান, ডিমলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ছাত্রশিবি নীলফামারীর জেলা সভাপতি তাজমিলুর রহমান, সাবেক ডোমার উপজেলা আমীর আব্দুল হাকিম প্রমূখ।
তিনি আরো বলেন, ৫ই আগষ্টের পর আমরা সাময়িক মুক্তি পেয়েছি। এই মুক্তকে আমরা স্থায়ী মুক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমরা চাই না এদেশে বার বার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক আর এদেশের মানুষকে লড়াই সংগ্রাম করে জীবন দিতে হবে। আমরা তা মোটেই চাই না। আমরা চাই আমাদের সন্তানদের ভাইদের রক্তের বিনিময়ে যে সাময়িক মুক্তি এসেছে এর মধ্য দিয়ে যেন ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হয়। আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে ৫৪বছর ধরে যে সমস্ত দল ক্ষমতায় ছিল তাদের শাসন আমল কেমন ছিল। তাদের মধ্য থেকে একটি দলকি বাংলাদেশকে দুঃশাসন এবং দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে পেরেছে। ৫ আগষ্ট পট পরিবর্তনের পর আগে যারা লুটেরা, চাঁদাবাজ,দখলদার,খুনি দুর্নীতিবাজ, হত্যাকারী তারা পালিয়েছে। এখন আমরা যারা আছি গত ১৫ বছরে যারা নির্যাতিত, অসংখ্য সহকর্মীকে হারিয়েছি। মানুষকে গুম করা হয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছে,অনেকে আহত হয়েছেন, সেই কষ্টের জনগনকে নিয়ে আমরা আছি। এই পরিবর্তনের দিনে আমরা দেশবাসী ও দলীয় কর্মীদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া যে আল্লাহতালা আমাদের বুকের উপর থেকে পাথর সরিয়ে দিয়েছেন। আসুন আমরা নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেই। আমরা ধৈর্য ধরি আমরা শান্ত থাকি এবং আমরা বাংলাদেশকে গঠন করার জন্য সর্ব শক্তি প্রয়োগ করি। কিন্তু আফসোস আগের চাঁদাবাজরা গিয়েছে এখন সর্বস্তরের মানুষ বলে শুধু হাত বদল হয়েছে। এখন চাঁদার রেট বেড়ে গেছে। এতগুলো মানুষ জীবন দিলো এতগুলো মানুষ রক্ত দিল তাদের জীবনের রক্তের কি কোন মুল্য নেই।
চাঁদাবাজের হাত বদল হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে ভোট দিতে হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারন তারাও গোটা বিশ্ব জুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অতি দ্রুত দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ভেঙে দেয়া হয়েছে। সেখানে কোন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি নেই। ফলে জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে। আমাদের রাজনীতি জনদুর্ভোগ বারানোর জন্য নয়। জন দুর্ভোগ কমাতে হবে। তাই অতিদ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দিতে হবে। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চাই, একটি দুঃশাসন মুক্ত বাংলাদেশ চাই। এই দেশ আমাদের সকলের দেশ। আমরা মেজরিটি মাইনোরিটি দেশ চাই না। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। একজন মুসলমান, একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ সবার সমান অধিকার চাই।