
জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (প্রায় ৩০) এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা না যাওয়ায় বিষয়টি ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় ওই যুবক গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, দুর্ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা না যাওয়ায় পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক অজ্ঞাত যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তিনি বলেন, “নিহতের পরিচয় শনাক্তে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।”
ওসি আরও জানান, বর্তমানে মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়, তাহলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-কে অবহিত করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ব্যস্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আবারও সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম 




















