
নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ শাহীন মিয়া:-ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলা গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন নিগুয়ারী ইউনিয়নে মাছ চুরি নিয়ে বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ এপ্রিল রাতে ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এই তান্ডব চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে কুরচাই গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ফিশারি থেকে মাছ চুরির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে পরদিন স্থানীয়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ও পারভেজের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করে। এসময় বাধা দিতে গেলে মোছাঃ আছমা বেগম (৪০), তার মেয়ে নাদিয়া (২২) এবং নাদিয়ার কোলে থাকা মাত্র ২.৫ বছর বয়সী শিশু সাদিককে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এছাড়া বাড়ির অন্যান্য সদস্যদেরও লাঞ্ছিত করার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আলমারি ভেঙে নগদ ৫০,০০০ টাকা লুটে নেয়। এছাড়া ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ১,৭০,০০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার (কানের দুল ও আংটি) ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এবং ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আছমা বেগম বাদী হয়ে পাগলা থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন— জালাল উদ্দিন (৬০), পারভেজ (৩০), সেলিনা খাতুন (৫০), মাহফুজ (২৫), ইমন (২১), সুমন (১৯), আজিম উদ্দিন (৫৫) ও সুমি (৪০)।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে পাগলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মোঃ শাহীন মিয়া 



















