Dhaka 1:40 am, Tuesday, 21 April 2026

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ, কর্মহীন থাকবেন লক্ষাধিক রাঙ্গাবালী উপকূল জেলে

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:37:29 pm, Wednesday, 25 February 2026
  • 10 Time View

সাব্বির কাজী,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—টানা দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। পহেলা মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পটুয়াখালীর লক্ষাধিক জেলে।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের পাশাপাশি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সময় নদীতে কোনো ধরনের জাল ফেলা, মাছ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে ১০ ইঞ্চির নিচের ইলিশ (জাটকা) ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং নৌবাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিদিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী। তিনি বলেন, “এই দুই মাস কোনো অসাধু জেলে যাতে নদীতে নামতে না পারে সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। নৌবাহিনীর সহায়তায় নিয়মিত অভিযান চলবে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল যথাসময়ে বিতরণের চেষ্টা থাকবে।”
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই অনেক ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা ঘাটে ফিরে আসতে শুরু করেছে। জরিমানা ও জেল এড়াতে জেলেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই নদী থেকে ফিরে আসছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিচ্ছেন এবং জাটকা সংরক্ষণেh সহযোগিতা করবেন। তবে টানা দুই মাস কর্মহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হয় তাদের।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, অভিযানের শুরুতেই সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে হবে এবং এ সময় এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, পটুয়াখালী জেলায় ১ লাখের বেশি জেলে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন থাকবেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৭৫০ জন নিবন্ধিত জেলেকে দুই মাস মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল সহায়তা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল হলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন যথাসময়ে সহায়তা ও কার্যকর তদারকি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ, কর্মহীন থাকবেন লক্ষাধিক রাঙ্গাবালী উপকূল জেলে

Update Time : 07:37:29 pm, Wednesday, 25 February 2026

সাব্বির কাজী,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—টানা দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। পহেলা মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পটুয়াখালীর লক্ষাধিক জেলে।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের পাশাপাশি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সময় নদীতে কোনো ধরনের জাল ফেলা, মাছ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে ১০ ইঞ্চির নিচের ইলিশ (জাটকা) ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং নৌবাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিদিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী। তিনি বলেন, “এই দুই মাস কোনো অসাধু জেলে যাতে নদীতে নামতে না পারে সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। নৌবাহিনীর সহায়তায় নিয়মিত অভিযান চলবে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল যথাসময়ে বিতরণের চেষ্টা থাকবে।”
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই অনেক ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা ঘাটে ফিরে আসতে শুরু করেছে। জরিমানা ও জেল এড়াতে জেলেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই নদী থেকে ফিরে আসছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিচ্ছেন এবং জাটকা সংরক্ষণেh সহযোগিতা করবেন। তবে টানা দুই মাস কর্মহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হয় তাদের।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, অভিযানের শুরুতেই সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে হবে এবং এ সময় এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, পটুয়াখালী জেলায় ১ লাখের বেশি জেলে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন থাকবেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৭৫০ জন নিবন্ধিত জেলেকে দুই মাস মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল সহায়তা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল হলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন যথাসময়ে সহায়তা ও কার্যকর তদারকি।