Dhaka 3:18 am, Saturday, 25 April 2026

লাখাইয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প গুচ্ছ গ্রাম যেন নিজের বাড়ী, জোর করেই অবৈধ ভাবে বসবাস

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:18:01 pm, Monday, 3 March 2025
  • 93 Time View

লাখাইয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প গুচ্ছ গ্রাম যেন নিজের বাড়ী, জোর করেই অবৈধ ভাবে বসবাস

এম ইয়াকুব হাসান অন্তর,লাখাই:

লাখাইয়ের ৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত অনেক ঘরেই তালা ঝুলছে। অনেকেরই বরাদ্দকৃত ঘরে অন্য লোকের বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ভূমিহীন বাছাই করতে না পারা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মত অনেকের।

যেসব ঘরে তালা ঝুলছে এবং বেনামে বসবাস করছে সেগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দেওয়ার মত প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার ধাপে ১২৫টি পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি পরিবার ২ শতাংশ জমির দলিল পেয়েছে।

এসব ঘর নির্মাণের পর সুবিধাভোগীদের বরাদ্দ দেয় লাখাই উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ২৬টি ঘরের মধ্যে ১১টি টিতে বসবাস করছেন দলিল গৃহিতারা, এবং বেনামে বসবাস করছেন ৭টি সুবিধাভোগী পরিবার । বাকি ঘরগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। অনেকেই নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে লাকড়ি রেখেছেন।

বামৈ ইউনিয়নে আবাসনের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, এ প্রকল্পে ৩৬টি বরাদ্দকৃত ঘর রয়েছে। এবং যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে, তাদের অনেকের নিজস্ব ঘরবাড়ি ও জমিজমা আছে, সে কারণে তারা এখানে থাকেন না।

২০২৪ইংরেজি সনে বন্যায় আক্রান্ত হয়ে ১১টি অসহায় পরিবার আশ্রয়ণ গ্রামে আশ্রয় নেন এবং বসবাস শুরু করেন, বন্যার পানি চলে গেলে সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেন কিন্তু তারা যাননি,এক সময় তাদের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়,তারপরও তারা যাননি, গতকাল দুসরা মার্চ শনিবার সর জমিনে গিয়ে দেখা যায়,এই ১১টি পরিবার এখনো বসবাস করছেন,এই অবৈধ পরিবারে একজন সদস্য নাম বলতে অনিচ্ছুক, তিনি বলেন,আমাদের ভিটামাঠি কিছুই নেই সেজন্য এখানে বসবাস করছি। আরেক অবৈধ সদস্য বলেন, তাঁর নিজস্ব বাড়ি থাকলেও ছেলের থাকার ঘর নেই। সে জন্য সরকারি ঘরে বসবাস করছেন।
একই আবাসনে আরেকটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন করাব ইউপির বাসিন্দা সাদন সরকার। তাঁরও নিজস্ব জায়গায় বাড়ি আছে, তিনি একা সেখানেই বসবাস করেন, এবং নিজস্ব বাড়ীতে উনার ছেলে তার বউকে নিয়ে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে বামৈ ইউপির এক সমাজ সেবক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ইউএনওরা সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেন না। এ কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন বাছাই করা যায়নি। তিনি বেশ কয়েকজনের নাম দিয়েছেন। কিন্তু সবাই পায়নি। যারা পেয়েছে, সবাই গৃহহীন। এ ছাড়া মনতৈল, কাশিমপুর,মুড়াকরি এই সব প্রকল্পেও রয়েছে নানা সমস্যা,এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশের সাথে মুঠো ফোনে বার বার ফোন করলেও উনি ফোন রিসিভ করে নাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লাখাইয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প গুচ্ছ গ্রাম যেন নিজের বাড়ী, জোর করেই অবৈধ ভাবে বসবাস

Update Time : 07:18:01 pm, Monday, 3 March 2025

লাখাইয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প গুচ্ছ গ্রাম যেন নিজের বাড়ী, জোর করেই অবৈধ ভাবে বসবাস

এম ইয়াকুব হাসান অন্তর,লাখাই:

লাখাইয়ের ৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত অনেক ঘরেই তালা ঝুলছে। অনেকেরই বরাদ্দকৃত ঘরে অন্য লোকের বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ভূমিহীন বাছাই করতে না পারা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মত অনেকের।

যেসব ঘরে তালা ঝুলছে এবং বেনামে বসবাস করছে সেগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দেওয়ার মত প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার ধাপে ১২৫টি পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি পরিবার ২ শতাংশ জমির দলিল পেয়েছে।

এসব ঘর নির্মাণের পর সুবিধাভোগীদের বরাদ্দ দেয় লাখাই উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ২৬টি ঘরের মধ্যে ১১টি টিতে বসবাস করছেন দলিল গৃহিতারা, এবং বেনামে বসবাস করছেন ৭টি সুবিধাভোগী পরিবার । বাকি ঘরগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। অনেকেই নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে লাকড়ি রেখেছেন।

বামৈ ইউনিয়নে আবাসনের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, এ প্রকল্পে ৩৬টি বরাদ্দকৃত ঘর রয়েছে। এবং যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে, তাদের অনেকের নিজস্ব ঘরবাড়ি ও জমিজমা আছে, সে কারণে তারা এখানে থাকেন না।

২০২৪ইংরেজি সনে বন্যায় আক্রান্ত হয়ে ১১টি অসহায় পরিবার আশ্রয়ণ গ্রামে আশ্রয় নেন এবং বসবাস শুরু করেন, বন্যার পানি চলে গেলে সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেন কিন্তু তারা যাননি,এক সময় তাদের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়,তারপরও তারা যাননি, গতকাল দুসরা মার্চ শনিবার সর জমিনে গিয়ে দেখা যায়,এই ১১টি পরিবার এখনো বসবাস করছেন,এই অবৈধ পরিবারে একজন সদস্য নাম বলতে অনিচ্ছুক, তিনি বলেন,আমাদের ভিটামাঠি কিছুই নেই সেজন্য এখানে বসবাস করছি। আরেক অবৈধ সদস্য বলেন, তাঁর নিজস্ব বাড়ি থাকলেও ছেলের থাকার ঘর নেই। সে জন্য সরকারি ঘরে বসবাস করছেন।
একই আবাসনে আরেকটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন করাব ইউপির বাসিন্দা সাদন সরকার। তাঁরও নিজস্ব জায়গায় বাড়ি আছে, তিনি একা সেখানেই বসবাস করেন, এবং নিজস্ব বাড়ীতে উনার ছেলে তার বউকে নিয়ে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে বামৈ ইউপির এক সমাজ সেবক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ইউএনওরা সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেন না। এ কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন বাছাই করা যায়নি। তিনি বেশ কয়েকজনের নাম দিয়েছেন। কিন্তু সবাই পায়নি। যারা পেয়েছে, সবাই গৃহহীন। এ ছাড়া মনতৈল, কাশিমপুর,মুড়াকরি এই সব প্রকল্পেও রয়েছে নানা সমস্যা,এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশের সাথে মুঠো ফোনে বার বার ফোন করলেও উনি ফোন রিসিভ করে নাই।