Dhaka 8:12 pm, Monday, 20 April 2026

রাঙ্গামাটিতে ইন্টারনেট সেবার আড়ালে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব,গ্রাহক সেবায়ও চরম ভোগান্তি

রাঙ্গামাটিতে ইন্টারনেট সেবার আড়ালে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব,গ্রাহক সেবায়ও চরম ভোগান্তি

মো: সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটি জেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের আড়ালে বিশাল অংকের ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাটসহ বিল আদায় করলেও সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে প্রায় ২৫/২৭টি ব্রডব্যান্ড কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন ধরে প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা এবং আয়ের তথ্য গোপন করে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই অনিয়মের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ‘ইয়েস নেট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তথ্য জানতে হলে বিটিআরসি-এর মাধ্যমে আসতে হবে। একইভাবে ‘কুমিল্লা নেট’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি। অন্যান্য কোম্পানীগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজী হয়নি।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটির ভ্যাট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, জেলাতে এতগুলো কোম্পানি কাজ করছে তা আমার জানা ছিল না। তিনি আরো বলেন: “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী জরিমানা ও বকেয়া আদায়সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সমন্বয়ে সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

সূত্র মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের মাসিক বিলের সাথে ভ্যাট যুক্ত করে টাকা নিলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। বিটিআরসি-এর লাইসেন্স এবং সোনালী ব্যাংকের ভ্যাট জমার চালানের স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করলে এই গরমিল স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়ম বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্যান্য আইএসপি (ISP) প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে এক অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে।

রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সেবার মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ইন্টারনেটকে জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করা হলেও রাঙ্গামাটি শহরজুড়ে গ্রাহকরা সঠিক ইন্টারনেট স্পিড পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

গ্রাহকদের ভাষ্যমতে, ইন্টারনেট সেবাখাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে নিয়মিত অডিট, লাইসেন্স নবায়নের সময় কঠোর যাচাই এবং ডিজিটাল বিলিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি এই খাতটি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে।
বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লাখাইয়ে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষা শুরু।

রাঙ্গামাটিতে ইন্টারনেট সেবার আড়ালে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব,গ্রাহক সেবায়ও চরম ভোগান্তি

Update Time : 08:41:30 pm, Wednesday, 24 December 2025

রাঙ্গামাটিতে ইন্টারনেট সেবার আড়ালে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব,গ্রাহক সেবায়ও চরম ভোগান্তি

মো: সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটি জেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের আড়ালে বিশাল অংকের ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাটসহ বিল আদায় করলেও সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে প্রায় ২৫/২৭টি ব্রডব্যান্ড কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন ধরে প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা এবং আয়ের তথ্য গোপন করে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই অনিয়মের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ‘ইয়েস নেট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তথ্য জানতে হলে বিটিআরসি-এর মাধ্যমে আসতে হবে। একইভাবে ‘কুমিল্লা নেট’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি। অন্যান্য কোম্পানীগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজী হয়নি।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটির ভ্যাট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, জেলাতে এতগুলো কোম্পানি কাজ করছে তা আমার জানা ছিল না। তিনি আরো বলেন: “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী জরিমানা ও বকেয়া আদায়সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সমন্বয়ে সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

সূত্র মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের মাসিক বিলের সাথে ভ্যাট যুক্ত করে টাকা নিলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। বিটিআরসি-এর লাইসেন্স এবং সোনালী ব্যাংকের ভ্যাট জমার চালানের স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করলে এই গরমিল স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়ম বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্যান্য আইএসপি (ISP) প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে এক অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে।

রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সেবার মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ইন্টারনেটকে জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করা হলেও রাঙ্গামাটি শহরজুড়ে গ্রাহকরা সঠিক ইন্টারনেট স্পিড পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

গ্রাহকদের ভাষ্যমতে, ইন্টারনেট সেবাখাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে নিয়মিত অডিট, লাইসেন্স নবায়নের সময় কঠোর যাচাই এবং ডিজিটাল বিলিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি এই খাতটি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে।
বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।