Dhaka 11:42 pm, Monday, 20 April 2026

তেরখাদায় ‘চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে হত্যা’র ভাইরাল পোস্ট গুজব. আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পুলিশের

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:53:20 pm, Monday, 20 April 2026
  • 25 Time View

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার:

খুলনা জেলার তেরখাদায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা’ করা হয়েছে—এমন দাবি সংবলিত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন।

সম্প্রতি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভিডিওসহ ওই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পোস্টে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

তবে তেরখাদা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাস্তবে তেরখাদায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।” তিনি জানান, গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেছেন। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফ এম ওহিদুজ্জামান বলেন, “তেরখাদায় ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে কোনো ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমানে নেই, অতীতেও ছিল না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ভিডিও ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে প্রশাসন ও এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”

২ নম্বর বারাসাত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কে এম আলমগীর হোসেন বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটি দেখেছি। এটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয় বলে মনে হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু বলেন, “ভুয়া ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি মহল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোয় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তারা গুজবের উৎস শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তেরখাদা থানা-পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

তেরখাদায় ‘চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে হত্যা’র ভাইরাল পোস্ট গুজব. আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পুলিশের

Update Time : 06:53:20 pm, Monday, 20 April 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার:

খুলনা জেলার তেরখাদায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা’ করা হয়েছে—এমন দাবি সংবলিত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন।

সম্প্রতি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভিডিওসহ ওই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পোস্টে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

তবে তেরখাদা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাস্তবে তেরখাদায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।” তিনি জানান, গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেছেন। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফ এম ওহিদুজ্জামান বলেন, “তেরখাদায় ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে কোনো ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমানে নেই, অতীতেও ছিল না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ভিডিও ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে প্রশাসন ও এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”

২ নম্বর বারাসাত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কে এম আলমগীর হোসেন বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটি দেখেছি। এটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয় বলে মনে হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু বলেন, “ভুয়া ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি মহল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোয় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তারা গুজবের উৎস শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তেরখাদা থানা-পুলিশ।