Dhaka 3:47 pm, Tuesday, 21 April 2026

এসএসসি-দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী.

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম -স্টাফ রিপোর্টার:-

সারাদেশে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে, যেখানে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।

সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা. ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা নেওয়া হবে।

দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওএমআর শিট পূরণ ও বিষয়ভিত্তিক অংশে আলাদাভাবে পাস করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নফাঁস রোধে কড়া নজরদারি.শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস রোধে এবার সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে। এজন্য মনিটরিং সেল গঠন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো আইনে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। নতুন করে সংশোধনী যুক্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

এমপির নির্দেশনায় নাগরপুরে ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, অভিভাবকদের হাতে পানীয়

এসএসসি-দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী.

Update Time : 11:59:17 am, Tuesday, 21 April 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম -স্টাফ রিপোর্টার:-

সারাদেশে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে, যেখানে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।

সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা. ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা নেওয়া হবে।

দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওএমআর শিট পূরণ ও বিষয়ভিত্তিক অংশে আলাদাভাবে পাস করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নফাঁস রোধে কড়া নজরদারি.শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস রোধে এবার সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে। এজন্য মনিটরিং সেল গঠন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো আইনে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। নতুন করে সংশোধনী যুক্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।