
খাদেমুল ইসলাম,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় তেতুলিয়ার আকাশে মেঘ জমলেই নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই( নেসকো) পল্লিবিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর হালকা বাতাস ও বৃষ্টি হলেও সারারাত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার উপক্রম লক্ষ্য করা গেছে। বেশি গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। গরমে না ঘুমাতে পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে ফোন ধরেন না এমন অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তেতুলিয়া উপজেলায় লোডশেডিং এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, বিদ্যুৎ এই আছে তো এখন নেই। তেতুলিয়া সদর ইউনিয়নে প্রেমচরন জোত গ্রামের বাসিন্দা ও চৌরাস্তা বাজার ব্যবসাহী মোঃ রইজ উদ্দিন বলেন প্রতিদিন মাগরিব নামাজের সময় হলেই বিদ্যুত থাকেনা। বিদ্যুতের আসা যাওয়া লুকোচুরি।
উপজেলার তিরনই হাট বাসিন্দা বিদ্যুৎ গ্রাহক আনোয়ারা বেগম বলেন, প্রায় সারাদিন চলে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা। এতে বাসার ফ্রিজ, টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট লাইনম্যানকে ফোন করলে বিদ্যুতের লাইনে গাছ পড়েছে বলে জানান।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এ অবস্থা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে দিনের অধিকাংশ সময়। গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, কোথাও আবার এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহের তীব্র লোডশেডিংয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অনেক। তাই জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি সবার।
অটোচালক সফিকুল অটোভ্যানের চালক রফিকুল বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাদের অটোরিকশা ফুল চার্জ করতে পারি না। রাতে ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়। এমনিতেই আমাদের এখানে তীব্র গরম চলছে, তার ওপর আবার বিদ্যুৎ থাকে না। খুব কষ্টে আছি।”
তেতুলিয়া চৌরাস্তা বাজার আকলিমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, এই উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে না ১৫-১৬ ঘণ্টা। এতে ফ্রিজে থাকা সব জিনিস নষ্ট হয়ে যায়। রিচার্জেবল ফ্যান বা আইপিএস থাকলেও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বাসাবাড়িতে তাও চার্জ হয় না।
উপজেলার গণমাধ্যম কর্মী মোবারক হোসাইন বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে ২০-৩০ বার লোডশেডিং হয়। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। রাতে ভোল্টেজ কম থাকায় ফ্যানও ঘুরতে চায় না। একে তো গরম, তার ওপর লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন মহাবিপদে।
এই অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিদ্যুতের লুকোচুরি বন্ধ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক কর্তৃপক্ষ।
পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম): মোঃ মেহেদী হাসান
জানান,তেতুলিয়া উপজেলায় দৈনিক মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪-৫ মেগাওয়াট। জ্বালানি সংকট ও দেশের অনেকগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।
Reporter Name 


















