
মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২) তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)।এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা বেগম (৪৫) ও শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানাকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাড়ির দরজা-জানালা অক্ষত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম আহমেদ ও নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। এ সময় র্যাব, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা জানাজানি হয়। বাড়ির সদর দরজাসহ সব জানালা-দরজা অক্ষত রয়েছে। তাহলে হত্যাকারীরা কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পারিপাশি^কতা দেখে তারা ধারণা করছেন নিজেদের লোকেরাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হাবিবুর রহমানের মরদেহ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল। অন্য একটি ঘরে পাওয়া যায় তাঁর ছেলে ও মেয়ের লাশ। বাড়ির আঙিনায় পড়ে ছিল পপি সুলতানার মরদেহ। ঘটনাটি জানাজানি হয় ভোরের দিকে, যখন হাবিবুরের বাবার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ফাঁসির দাবি করেন তারা।
নিহত হাবিবুর রহমানের প্রতিবেশী খলিলুর রহমান বলেন, হাবিবুর স্ত্রী-সন্তানসহ তার বাবা নমির উদ্দিনকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। রাতের কোন সময় এ ঘটনা ঘটেছে কিছুই বলতে পারছি না। রাতে কোনো চিৎকার চেঁচামেচিও শোনা যায়নি। সকাল ৬টার দিকে তাঁর বাবার চিৎকারের পর এলাকার লোকজন জানতে পারেন।নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নমির উদ্দিন প্রত্যেক মেয়েকে ১০ কাঠা করে সম্পত্তি দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তি হাবিবুরের নামে লিখে দেন। এনিয়ে বোনদের সঙ্গে ভাই হাবিবুরের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
হাবিবুরের স্ত্রীর মামা আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, ঈদের আগে একবার খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে তাঁদের অচেতন করার ঘটনাও ঘটেছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁ পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
Reporter Name 


















