
পরকীয়ার টানাপড়নে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার আসামী নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ীতে সালমা বেগম (২৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘর থেকে টাকা লুটে নেওয়া মামলার আসামী হেমায়েত উল্যাহ (২৫) কে নোয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
আসামী মোঃ হেমায়েত উল্যাহ নোয়াখালী জেলার চর জব্বার থানার দক্ষিণ চর ক্লার্ক গ্রামের মোঃ আহসান উল্যাহর ছেলে।
বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার সময় রাজবাড়ী সদর থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালী জেলার চর জব্বার থানা পুলিশের সহায়তায় চর জব্বার থানা এলাকায় আসামীর বসত বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী সালমা খাতুন (২৫) কে তার বসত বাড়ির ভিতরের ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে কে বা কারা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের বাইরে ছিটকিনি লাগিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল সালমার বাবা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সালমার শ্বাশুড়ি লতা বেগম বলেন, তার ছেলে আজাদ চার বছর ঢাকার নারায়নগঞ্জে দর্জির কাজ করেছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সে নারায়ণগঞ্জে থাকত। দুই বছর আগে সে পরিবার নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। দেড় বছর আগে সে সৌদি আরব চলে যায়। সে সৌদি আরব যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী সালমা দুই শিশু সন্তান নিয়ে বাড়ীতে থাকতো। ‘ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টার দিকে সালমা দুই শিশু সন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সালমার ঘরের সামনে গিয়ে নাতি সাদিককে ডাক দেই। এসময় সাদিক ঘরের ভেতর থেকে কান্না করে বাইরে থেকে দরজা খুলতে বলে। তখন আমি দেখি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। আমি দরজা খুলে ঘরের ভেতর ঢুকে দেখি সালমা খাটের ওপর চিৎ করে শোয়া অবস্থায় রয়েছে। তার শরীর কাঁথা দিয়ে ঢাকা এবং গলায় ওড়না দিয়ে টাইট করে পেঁচানো। তার দুপাশে দুই সন্তান বসে আছে।’
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে ঈদের আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টাকার উপরে পাঠিয়েছে। সালমাকে হত্যা করে ঘর থেকে টাকা ও সালমার নাকের নাকফুল নিয়ে যায়।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, রাজবাড়ী সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি শক্তিশালী টিম তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান করে। ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ হেমায়েত উল্লাহ্কে নোয়াখালী জেলার চর জব্বার থানা পুলিশের সহায়তায় চর জব্বার থানা এলাকায় আসামীর বসত বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তীতে বৃহস্পতিবার নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলের পাশের গ্রাম নূরপুর গ্রামের কৃষ্ণ হালদারের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরকিয়া সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এ হত্যাকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আসামীকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে।
Reporter Name 


















