
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা পেশা আজ এক কঠিন সময় পার করছে। গণমাধ্যম জাতির চতুর্থ স্তম্ভ হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করছে। তাদের একমাত্র ব্যবসা—ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আর আইডি কার্ড বিক্রি।
দেশে হাজারো দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অনলাইন পত্রিকা আছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এদের মধ্যে অনেকেই সংবাদ প্রকাশ করে না। বছরে এক-দুবার কোনোভাবে কাগজ ছাপালেও সারাবছর অনলাইনে “প্রতিনিধি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি” চালিয়ে যায়। এরপর নবীন সাংবাদিকদের কাছে মোটা টাকা নিয়ে আইডি কার্ড দেয়।
এই প্রতারক সম্পাদকদের কাছে সংবাদপত্র মানেই একটি ট্রেড লাইসেন্স, যার মাধ্যমে তারা টাকা কামায়, ক্ষমতা দেখায়। কিন্তু পাঠক, সত্য সংবাদ আর সাংবাদিকতার প্রতি তাদের কোনো দায় নেই।
অসংখ্য নবীন সাংবাদিক এই ফাঁদে পা দিয়ে আইডি কার্ড নেয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখে—তাদের পত্রিকার কোনো অস্তিত্বই নেই। সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে গেলে অপমানিত হয়, অনুষ্ঠান কাভার করতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। এভাবে একদিকে নবীনরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে।
এদিকে রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করে মুখোশধারী চতুর
প্রতারক সম্পাদকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের “সম্পাদক” পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। অথচ তাদের পত্রিকায় কোনো খবরই নেই, নেই পাঠক, নেই নিয়মিত প্রকাশ। এটি সরাসরি রাষ্ট্র ও জাতির সাথে প্রতারণা এবং সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র।
প্রতারকদের প্রতি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
যারা সংবাদ প্রকাশ না করে শুধু আইডি কার্ড বিক্রি করছে,
-যারা নবীনদের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে,
-যারা সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা করছে—
তারা সম্পাদক প্রকাশক অথবা সাংবাদিক নয়, তারা প্রতারক ব্যবসায়ী।
👉 আমাদের শিক্ষিত সাহসী সাংবাদিক সমাজ তাদের চিহ্নিত করেছে।
কিছুদিনের মধ্যেই কালো তালিকা তৈরি করে একে একে তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া হবে।
আমাদের পক্ষ থেকে নবীন সাংবাদিকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে—টাকা দিয়ে আইডি নয়, কাজ দিয়ে পরিচয় গড়ুন।
আমি জানি, এই কথাগুলি প্রকাশের পর আমাকে অনেকেই হুমকি দেবে। কিন্তু আমি এটুকুই বলি—
যারা হুমকি দেবে, তারাই আসল প্রতারক।
সত্য সাংবাদিকতা কখনো ভয় পায় না, সত্য সাংবাদিকতা কখনো পিছু হটে না।
বাহাদুর চৌধুরী 


















