Dhaka 4:36 pm, Monday, 20 April 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফ্লাটবাড়ী দখলের চেষ্টায় অসহায় পরিবারের উপর দুর্বৃত্তদের হামলা

মোহাম্মদ মস্ত মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার খাঁটিহাতা বিশ্বরোড এলাকায় চাঁদা দাবি ফ্লাটবাড়ী দখলের উদ্দেশ্যে একটি নিরীহ পরিবারের উপর স্থানীয় প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে বর্বরচিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার আখিতারা গ্রামের আমজত আলীর মেয়ে ঝুমা আক্তার (২৮) খাটিহাতা বিশ্বরোড এলাকায় প্রায় ৬ মাস আগে একটি ভবনের চতুর্থতলায় ৪ রুমের একটি ফ্ল্যাট সাব কবলা দলিলমূলে ক্রয় করে, পার্শ্ববর্তী গ্রামের আব্দুল জাহেরের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে। ফ্ল্যাট বাড়িটি ক্রয়ের পর থেকেই এলাকার প্রভাবশালী বেশকিছু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা ঝুমা আক্তার ও তার পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ করেছে, ঝুমা ও তার পরিবারের লোকজন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, চাঁদাবাজরা চড়াও হয়ে কয়েকদফা ঝুমার পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টার দিকে ঝুমা ও ঝুমার মা সানুফা বেগমেরসহ পরিবারের সবার উপর লোহার রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম দিয়ে মারপিট করলে, তারা গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে ঝুমা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেয়ার ঝুমা আক্তার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৫৪ ধারা অনুসারে ৭ জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনয়ন করে নালিশা দরখাস্ত পর্যালোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশকে এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ প্রদান করে।
এই বিষয়ে ঝুমা আক্তার বাদী হয়ে গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে অজ্ঞাতনামাসহ ৭ জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার স্মারক নং ৫৩৩, মামলা সি আর ৪২৮/২৬। তার মামলার পর বাদী ঝুমা অভিযোগ করে বলেন, আসামীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যা কাউন্টার মামলা করলে, পুলিশ আমার মামলার আসামীদেরকে গ্রেফতার না করে, উল্টো আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে এবং ভয়ে আমরা কেউ বাড়ীতে থাকতে পারছিনা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় চলছে নানা ধরনের গুঞ্জন। ঝুমার মামলার আসামীরা হলেন, খাঁটিহাতা পশ্চিমপাড়ার সবদর আলীর ছেলে আজিজুল, মতিউর রহমানের ছেলে সবদর আলী, মনজুর আলীর ছেলে আনু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী রোজিনা বেগম, আনু মিয়ার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, সবদর আলীর স্ত্রী আলেহা বেগম। নিরীহ ঝুমা আক্তারের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা ঊর্ধ্বতন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন। উভয় পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার-তদন্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম পি পি এম বলেন, আমার তো আদালতের আদেশ মানতে হবে। আমি এমসি আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর একটি মামলার বিষয়ে বলেন, আসামীরা জামিনে আসতেই পারে। ওটা আদালতের বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বগুড়া পথে সিরাজগঞ্জে মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফ্লাটবাড়ী দখলের চেষ্টায় অসহায় পরিবারের উপর দুর্বৃত্তদের হামলা

Update Time : 02:18:14 pm, Monday, 20 April 2026

মোহাম্মদ মস্ত মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার খাঁটিহাতা বিশ্বরোড এলাকায় চাঁদা দাবি ফ্লাটবাড়ী দখলের উদ্দেশ্যে একটি নিরীহ পরিবারের উপর স্থানীয় প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে বর্বরচিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার আখিতারা গ্রামের আমজত আলীর মেয়ে ঝুমা আক্তার (২৮) খাটিহাতা বিশ্বরোড এলাকায় প্রায় ৬ মাস আগে একটি ভবনের চতুর্থতলায় ৪ রুমের একটি ফ্ল্যাট সাব কবলা দলিলমূলে ক্রয় করে, পার্শ্ববর্তী গ্রামের আব্দুল জাহেরের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে। ফ্ল্যাট বাড়িটি ক্রয়ের পর থেকেই এলাকার প্রভাবশালী বেশকিছু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা ঝুমা আক্তার ও তার পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ করেছে, ঝুমা ও তার পরিবারের লোকজন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, চাঁদাবাজরা চড়াও হয়ে কয়েকদফা ঝুমার পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টার দিকে ঝুমা ও ঝুমার মা সানুফা বেগমেরসহ পরিবারের সবার উপর লোহার রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম দিয়ে মারপিট করলে, তারা গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে ঝুমা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেয়ার ঝুমা আক্তার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৫৪ ধারা অনুসারে ৭ জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনয়ন করে নালিশা দরখাস্ত পর্যালোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশকে এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ প্রদান করে।
এই বিষয়ে ঝুমা আক্তার বাদী হয়ে গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে অজ্ঞাতনামাসহ ৭ জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার স্মারক নং ৫৩৩, মামলা সি আর ৪২৮/২৬। তার মামলার পর বাদী ঝুমা অভিযোগ করে বলেন, আসামীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যা কাউন্টার মামলা করলে, পুলিশ আমার মামলার আসামীদেরকে গ্রেফতার না করে, উল্টো আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে এবং ভয়ে আমরা কেউ বাড়ীতে থাকতে পারছিনা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় চলছে নানা ধরনের গুঞ্জন। ঝুমার মামলার আসামীরা হলেন, খাঁটিহাতা পশ্চিমপাড়ার সবদর আলীর ছেলে আজিজুল, মতিউর রহমানের ছেলে সবদর আলী, মনজুর আলীর ছেলে আনু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী রোজিনা বেগম, আনু মিয়ার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, সবদর আলীর স্ত্রী আলেহা বেগম। নিরীহ ঝুমা আক্তারের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা ঊর্ধ্বতন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন। উভয় পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার-তদন্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম পি পি এম বলেন, আমার তো আদালতের আদেশ মানতে হবে। আমি এমসি আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর একটি মামলার বিষয়ে বলেন, আসামীরা জামিনে আসতেই পারে। ওটা আদালতের বিষয়।