Dhaka 12:49 pm, Friday, 5 June 2026

ওসি প্রদীপের নির্যাতিত সাংবাদিকের আর্তনাদ ৭ বছরেও প্রত্যাহার হয়নি ৬টি মামলা

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:-
মেজর সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বহিষ্কৃত সাবেক টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস–এর হাতে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ন্যায়বিচার, মামলা প্রত্যাহার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে টেকনাফ এলাকায় মাদক ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। বিশেষ করে “টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি তৎকালীন ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগীদের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে ঢাকা থেকে আটক করে টেকনাফে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন ধরে নির্যাতনের পর অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একের পর এক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আদালতে পাঠানোর পর তিনি টানা ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি মামলা প্রত্যাহার, জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন বলে জানান।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় লিখিত আবেদন করেন তিনি।
সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান বলেন,
“মামলার বোঝা আর সইতে পারছি না। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি প্রদীপ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা তার ফৌজদারি মামলাটিও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর অগ্রগতি পাচ্ছে না। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন Reporters Without Bordersসহ বিভিন্ন সংগঠন অতীতে তার আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া United States Department of State–এর মানবাধিকার প্রতিবেদনে ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওসি প্রদীপের নির্যাতিত সাংবাদিকের আর্তনাদ ৭ বছরেও প্রত্যাহার হয়নি ৬টি মামলা

Update Time : 11:32:11 pm, Saturday, 16 May 2026

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:-
মেজর সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বহিষ্কৃত সাবেক টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস–এর হাতে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ন্যায়বিচার, মামলা প্রত্যাহার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে টেকনাফ এলাকায় মাদক ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। বিশেষ করে “টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি তৎকালীন ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগীদের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে ঢাকা থেকে আটক করে টেকনাফে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন ধরে নির্যাতনের পর অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একের পর এক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আদালতে পাঠানোর পর তিনি টানা ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি মামলা প্রত্যাহার, জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন বলে জানান।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় লিখিত আবেদন করেন তিনি।
সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান বলেন,
“মামলার বোঝা আর সইতে পারছি না। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি প্রদীপ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা তার ফৌজদারি মামলাটিও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর অগ্রগতি পাচ্ছে না। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন Reporters Without Bordersসহ বিভিন্ন সংগঠন অতীতে তার আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া United States Department of State–এর মানবাধিকার প্রতিবেদনে ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে