
এবাদুল হোসেন ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানাধীন সাহেবপাড়ায় সংঘটিত আলোচিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রথমবারের মতো একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মুহাম্মদ জিলানী (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ রাত সাড়ে ৭টার দিকে বন্দর থানার মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাহেবপাড়া এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় ২৮ জুলাই মামলা রুজু করা হয়। মামলায় দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, চুরি, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী পারুল বেগম অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ভাইদের মাছের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ফ্রিজার, কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষ এবং একাধিক বসতবাড়িতে পরিকল্পিত হামলা চালায়।
এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে অফিসে প্রবেশ করে এবং চুক্তির জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, নগদ অর্থ, হিসাবের খাতা, ব্যাংকের চেকবই, জমা বই ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাছের ফ্রিজার রুম থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কেজি মাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, লুট করা হয়। একই সঙ্গে কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষে ঢুকে মোবাইল ফোন, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া “মা-বাবা দোয়া ফিসিং ট্রেডার্স” প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ লুট, অফিসের আসবাবপত্র, ল্যাপটপ, এসি ও ফ্রিজ ভাঙচুর এবং বাইরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও রয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ঢুকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং প্রতিষ্ঠানের এক কিশোর কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বাদীপক্ষের দাবি, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফ্রিজার, আবাসিক কক্ষ ও বসতবাড়িসহ প্রায় ৫২ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুহাম্মদ জিলানীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি। তদন্তের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাহেবপাড়া এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মামলার অন্যান্য এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একজনকে গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহার ও পুলিশি প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগসমূহ বর্তমানে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।
এবাদুল হোসেন 











