
নিজস্ব প্রতিবেদক:বাবলু বড়ুয়া
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দাবি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরের কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়মিত বড় অঙ্কের মাসোহারা দেওয়া হতো। তবে এ দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগে মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ আরও কয়েকজনের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ডে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পুলিশের দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডেভিড ইমন ও অন্য আসামিরা তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ডে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ডেভিড ইমনসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা ছাড়াও অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আদালত তাকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য: ডেভিড ইমনের জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিকদের মাসোহারা দেওয়ার যে দাবি উঠে এসেছে, তা বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
বাবলু বড়ুয়া 

















