
নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং–সংক্রান্ত দুটি পৃথক ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে উপজেলার কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম।
১. মাদক ব্যবসায়ীর ৪টি সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. তারেক হোসেনের নামে থাকা চারটি দলিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারায় এ আদেশ দেওয়া হয়। মিস পিটিশন মামলা নং-০২/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে দেওয়া এ আদেশে গোদাগাড়ী উপজেলার বাজে তিরিন্দা ও মাছমারা মৌজায় অবস্থিত মোট প্রায় ২১০.৭৫ শতাংশ জমি ক্রোক করা হয়েছে।
আদালত জেলা রেজিস্ট্রার, গোদাগাড়ীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাব-রেজিস্ট্রারকে সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর বা নিবন্ধন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রোকাদেশ বলবৎ থাকা অবস্থায় এসব সম্পত্তি কোনোভাবেই হস্তান্তর, বিক্রি, বিনিময় বা দায়যুক্ত করা যাবে না।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ যাতে স্থানান্তর বা রূপান্তর করা না যায়, সে লক্ষ্যেই এই ক্রোকাদেশ। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
*২. ৪ ভাইয়ের বিরুদ্ধে এনএসআই-তে লিখিত অভিযোগ*
অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ী মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফয়েজুল রহমান জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনে আব্দুর রহিম টিপু এবং তাঁর ভাই মনিরুল, মেহেদী ও সোহেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলেছেন।
আবেদনে দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে গোদাগাড়ী, রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি, মার্কেট, দোকান, কৃষিজমি, পুকুর, খামার ও বিভিন্ন যানবাহনসহ বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে সম্পত্তি-সংক্রান্ত কিছু নথি ও সংবাদপত্রের কাটিং সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগগুলো এখনো কোনো তদন্ত সংস্থা বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম টিপু, মনিরুল, মেহেদী ও সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অন্যতম শর্ত।
Reporter Name 
















