
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগ উপজেলায় লাকি আক্তার (২৮) নামে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের গুনিয়াউক গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত লাকি আক্তার পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার রামনকুমার ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের শামসুল হুদার মেয়ে। তিনি নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মস্থলের সুবিধার্থে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছেই মুন্সি মোজাহিদ মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।
তার শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট থেকে নয় বছর আগে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে শরিফ আহমেদের সঙ্গে লাকি আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
স্বজন ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তিনি যথারীতি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন।দায়িত্ব শেষে বিকেলে বাসায় ফেরেন। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের স্বামী শরিফ আহমেদ জানান, তিনি সকাল ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর ১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।
পরে তিনি বাড়ির মালিক সুবল মিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে বাসায় খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন।
বাড়ির মালিক বাসায় গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা রয়েছে এবং দুইটি ছোট শিশু কান্নাকাটি করছে।
ভেতরের একটি কক্ষে লাকি আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বজনরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একজন দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যেও শোক ও বিস্ময় নেমে আসে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, একজন নার্সের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, লাকি আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
বিশেষ করে মায়ের নিথর দেহের পাশে দুই অবুঝ শিশুর উপস্থিতির বিষয়টি স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করেছে।
তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 




















