Dhaka 8:40 pm, Thursday, 2 July 2026

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবদল সভাপতি মুকুল গ্রেপ্তার।

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:43:58 pm, Thursday, 2 July 2026
  • 23 Time View

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
‎গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ( সদ্য বহিস্কৃত) মোকলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে বুধবার (১ জুলাই) রাতে গাজীপুরের হারিকেন কোম্পানি এলাকা থেকে সাঘাটা থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

‎বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। আসামীকে সাঘাটা থানায় আনার হচ্ছে ।

‎গ্রেপ্তার মোকলেসুর রহমান মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সদ্য বহিষ্কৃত বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।

‎নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে এবং রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মোকলেসুর রহমান মুকুল, আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা আসামি। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

যদি লাগে আগের ঘটনা ….

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

‎এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় মামলা নং-২৩ দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনকে নামীয় এবং ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

‎ঘটনার পর একই রাতে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকাসহ গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

‎২২ জুন বাদ আসর বোনারপাড়া সরকারি আজহার আলী স্কুল মাঠে সাইফুল্লাহ বারীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় গাইবান্ধার তিনটি সংসদীয় আসনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবদল সভাপতি মুকুল গ্রেপ্তার।

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবদল সভাপতি মুকুল গ্রেপ্তার।

Update Time : 03:43:58 pm, Thursday, 2 July 2026

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
‎গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ( সদ্য বহিস্কৃত) মোকলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে বুধবার (১ জুলাই) রাতে গাজীপুরের হারিকেন কোম্পানি এলাকা থেকে সাঘাটা থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

‎বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। আসামীকে সাঘাটা থানায় আনার হচ্ছে ।

‎গ্রেপ্তার মোকলেসুর রহমান মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সদ্য বহিষ্কৃত বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।

‎নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে এবং রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মোকলেসুর রহমান মুকুল, আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা আসামি। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

যদি লাগে আগের ঘটনা ….

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

‎এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় মামলা নং-২৩ দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনকে নামীয় এবং ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

‎ঘটনার পর একই রাতে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকাসহ গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

‎২২ জুন বাদ আসর বোনারপাড়া সরকারি আজহার আলী স্কুল মাঠে সাইফুল্লাহ বারীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় গাইবান্ধার তিনটি সংসদীয় আসনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।