Dhaka 10:30 am, Tuesday, 21 April 2026

কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে গ্রেপ্তার ৩-

নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ শাহীন মিয়া:-গত ১৭/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী জনাব ছাইদুর রহমান, পিতা-মোহাম্মদ আলী, সাং-কেন্দুয়া,থানা-তারাকান্দা, জেলা-ময়মনসিংহ, এ/পি-সাং-মাধবপুর,থানা ও জেলা-শেরপুর,শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন (শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২, তারিখ-১৭/০৩/২০২৬ খ্রীঃ, ধারা-৪২০/৪০৬ পেনাল কোড)| তিনি অভিযোগ করেন যে,শেরপুর সরকারি গার্লস স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত তার কন্যা মোছাঃ লুবাবা (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা-মাকে সব থেকে আপন করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসছিল। গত ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ হতে ০৯/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জনৈক মোঃ খুরশেদ কবিরাজ বাদীর মেয়ে লুবাবা এর নিকট হতে বিকাশের মাধ্যমে ২,৪৩,১৫০/- টাকা,গত ১০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ সাড়ে ২৭ ভরি ¯অলংকার ও নগদ ১,০০,০০০/- টাকা প্রতারণামূলক ভাবে নিয়ে যায়| জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা অত্র মামলা সংক্রান্তে জানতে পেরে পিবিআই, জামালপুর ইউনিটকে অত্র মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন| উক্ত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত ৩১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ মামলাটি পিবিআই, হেডকোয়ার্টার্স এর মাধ্যমে পিবিআই, জামালপুর জেলা ¯^-উদ্যোগে গ্রহণ করে| মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ)/মোঃ আব্দুস সালাম এর উপর অর্পণ করা হয়|

জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল,অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পিবিআই, জামালপুর জেলার বেশ কয়েকটি টিম মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে| তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী ১| মোঃ মুছা মিয়া (২৯), পিতা-মোঃ মোস্তফা, ২| মোঃ রফিকুল ইসলাম (২৮), পিতা-মৃত নবাব আলী, উভয় সাং-চরযথার্থপুর চান্দাপাড়া, থানা ও জেলা-জামালপুরদের গত ০৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা এমসি বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করে পিবিআই, জামালপুর| তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫/০৪/২০২৬ খ্রিঃ মূলহোতা মোঃ মনির হোসেন (২১), পিতা-মৃত মজিবুর রহমান, সাং-চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া, থানা ও জেলা-জামালপুরকে ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানাধীন মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়| তার নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়| পরবর্তীতে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ীর পাশ্বর্বর্তী বাগানের মাটি খুড়ে ২৫ ভরি ০৯ আনা ০৪ রুতি-অলংকার মূল্য অনুমান ৬৪,০০,০০০/- (চৌষট্টি লক্ষ) টাকা উদ্ধার করা হয়|

তদন্ত ও আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামীরা ইমু একাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে শুনে সমাধানের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়| বাদীর মেয়ে কিছুদিন যাবত নিজে থেকেই মনে করে আসছিল যে, তার বাবা-মা তার ছোট ভাইবোন এর চেয়ে তাকে কম আদর করে| এই বিষয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে বাদীর অজান্তে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কিভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় সেই বিষয়ে ভিডিও দেখা শুরু করে| টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী জনৈক মোঃ খুরশেদ কবিরাজের সাথে বাদীর মেয়ের পরিচয় হয়| উক্ত পরিচয়ের সূত্র ধরে মোঃ খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক তার সহকারী “কবিরাজ” নামে ০২টি ও “আল্লাহর দান” নামে ০১টি ইমু একাউন্টের মাধ্যমে বাদীর মেয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কবিরাজির ফি, ০১টি খাসি, ০৪টি জায়নামাজ, ০৪টি আগর বাতি, ০৪টি মোমবাতি, ০৫ কেজি গরুর দুধ, ০৫ কেজি ফল, মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর ক্রয় করে জবাই করা, ০২ কেজি চন্দন কাঠ ক্রয় ইত্যাদি বাবদ গত ০৬/০৩/২০২৬ খ্রিঃ হতে ০৯/০৩/২০২৬ খ্রিঃ পর্যন্ত মোট ২,৪৩,১৫০/- টাকা বিকাশ একাউন্টে প্রদান করে| গত ১০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সর্বশেষ কাজ হিসেবে ঝাড়ফুঁক দিয়ে দেয়ার কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি ¯^র্ণালংকার ও নগদ ০১ লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে চলে আসে।

বাদীর মেয়ে আবার টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশ দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় বাদীকে ফোন করলে বাদী উক্ত প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারেন। মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ০৩ জন প্রতারককে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে|

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দেশজুড়ে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন জননেতা মাইনুল আলম খান কনক

কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে গ্রেপ্তার ৩-

Update Time : 03:42:47 pm, Thursday, 16 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ শাহীন মিয়া:-গত ১৭/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী জনাব ছাইদুর রহমান, পিতা-মোহাম্মদ আলী, সাং-কেন্দুয়া,থানা-তারাকান্দা, জেলা-ময়মনসিংহ, এ/পি-সাং-মাধবপুর,থানা ও জেলা-শেরপুর,শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন (শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২, তারিখ-১৭/০৩/২০২৬ খ্রীঃ, ধারা-৪২০/৪০৬ পেনাল কোড)| তিনি অভিযোগ করেন যে,শেরপুর সরকারি গার্লস স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত তার কন্যা মোছাঃ লুবাবা (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা-মাকে সব থেকে আপন করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসছিল। গত ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ হতে ০৯/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জনৈক মোঃ খুরশেদ কবিরাজ বাদীর মেয়ে লুবাবা এর নিকট হতে বিকাশের মাধ্যমে ২,৪৩,১৫০/- টাকা,গত ১০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ সাড়ে ২৭ ভরি ¯অলংকার ও নগদ ১,০০,০০০/- টাকা প্রতারণামূলক ভাবে নিয়ে যায়| জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা অত্র মামলা সংক্রান্তে জানতে পেরে পিবিআই, জামালপুর ইউনিটকে অত্র মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন| উক্ত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত ৩১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ মামলাটি পিবিআই, হেডকোয়ার্টার্স এর মাধ্যমে পিবিআই, জামালপুর জেলা ¯^-উদ্যোগে গ্রহণ করে| মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ)/মোঃ আব্দুস সালাম এর উপর অর্পণ করা হয়|

জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল,অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পিবিআই, জামালপুর জেলার বেশ কয়েকটি টিম মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে| তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী ১| মোঃ মুছা মিয়া (২৯), পিতা-মোঃ মোস্তফা, ২| মোঃ রফিকুল ইসলাম (২৮), পিতা-মৃত নবাব আলী, উভয় সাং-চরযথার্থপুর চান্দাপাড়া, থানা ও জেলা-জামালপুরদের গত ০৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা এমসি বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করে পিবিআই, জামালপুর| তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫/০৪/২০২৬ খ্রিঃ মূলহোতা মোঃ মনির হোসেন (২১), পিতা-মৃত মজিবুর রহমান, সাং-চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া, থানা ও জেলা-জামালপুরকে ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানাধীন মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়| তার নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়| পরবর্তীতে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ীর পাশ্বর্বর্তী বাগানের মাটি খুড়ে ২৫ ভরি ০৯ আনা ০৪ রুতি-অলংকার মূল্য অনুমান ৬৪,০০,০০০/- (চৌষট্টি লক্ষ) টাকা উদ্ধার করা হয়|

তদন্ত ও আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামীরা ইমু একাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে শুনে সমাধানের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়| বাদীর মেয়ে কিছুদিন যাবত নিজে থেকেই মনে করে আসছিল যে, তার বাবা-মা তার ছোট ভাইবোন এর চেয়ে তাকে কম আদর করে| এই বিষয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে বাদীর অজান্তে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কিভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় সেই বিষয়ে ভিডিও দেখা শুরু করে| টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী জনৈক মোঃ খুরশেদ কবিরাজের সাথে বাদীর মেয়ের পরিচয় হয়| উক্ত পরিচয়ের সূত্র ধরে মোঃ খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক তার সহকারী “কবিরাজ” নামে ০২টি ও “আল্লাহর দান” নামে ০১টি ইমু একাউন্টের মাধ্যমে বাদীর মেয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কবিরাজির ফি, ০১টি খাসি, ০৪টি জায়নামাজ, ০৪টি আগর বাতি, ০৪টি মোমবাতি, ০৫ কেজি গরুর দুধ, ০৫ কেজি ফল, মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর ক্রয় করে জবাই করা, ০২ কেজি চন্দন কাঠ ক্রয় ইত্যাদি বাবদ গত ০৬/০৩/২০২৬ খ্রিঃ হতে ০৯/০৩/২০২৬ খ্রিঃ পর্যন্ত মোট ২,৪৩,১৫০/- টাকা বিকাশ একাউন্টে প্রদান করে| গত ১০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সর্বশেষ কাজ হিসেবে ঝাড়ফুঁক দিয়ে দেয়ার কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি ¯^র্ণালংকার ও নগদ ০১ লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে চলে আসে।

বাদীর মেয়ে আবার টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশ দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় বাদীকে ফোন করলে বাদী উক্ত প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারেন। মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ০৩ জন প্রতারককে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে|