
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশের এসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে বর্বর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নরসিংদীর বাবা-মাহীন এতিম কিশোরী মিলন। ছোটবেলা থেকেই ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছিল সে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমড়ার তরকারি পুড়ে যাওয়ার জেরে মিলনকে বারান্দায় কান ধরে একাধিকবার ওঠবস করানো হয়। এরপর লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়।
ঘটনাটি চোখে পড়ে এক সংবাদকর্মী ও ৩ জন সামাজিক সংগঠনের নারী নেত্রীর। তারা বাড়িতে ঢুকতে চাইলে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। পরে কৌশলে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশের সহায়তায় ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। উদ্ধার করা হয় মিলনকে।
উদ্ধারের পর দেখা যায়, মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি ও কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকার চিহ্ন রয়েছে। হাত-পা – পিঠে লাঠির আঘাতের দাগ স্পষ্ট। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্র দুজনেই সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত। একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
একটি তরকারি পোড়ার ‘ভুলে’ এতিম কিশোরীর শরীরে যে ক্ষত তৈরি হলো, তার বিচার হয় কিনা -এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Reporter Name 




















