
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাকরাইদ ইউনিয়নের রামকৃষ্ণবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও মুখলেছুর রহমান খানের ছেলে মো. আল মারুফ খান ১৮ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে মো. আল মারুফ খান ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযোগকারীর অনুকূলে ১৮ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ (Insufficient Fund) উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাদীপক্ষ ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আসামির ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধ না করায় The Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দেখতে পান যে, চেক ইস্যু, ব্যাংক কর্তৃক ডিজঅনার, লিগ্যাল নোটিশ প্রদান এবং মামলা দায়েরসহ আইনের সকল প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দালিলিক তথ্য পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত মো. আল মারুফ খানকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ডের মধ্যে ১৮ লাখ টাকা অভিযোগকারী উত্তোলন করতে পারবেন এবং অবশিষ্ট ৭০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, মামলাটি টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 


















