
বিশেষ প্রতিনিধি: কামরুল ইসলাম, টেকনাফ (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা শহরে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক মুদি ব্যবসায়ী। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার সময় ব্যবসায়ীর কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, মোবাইল রিচার্জ কার্ডসহ প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, আহত ব্যবসায়ীর নাম আবু বক্কর ছিদ্দিক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একটি মুদি দোকানের মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন আবু বক্কর ছিদ্দিক। পথে টেকনাফ উপজেলা শহীদ মিনারের পেছনের নির্জন এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার আড়ালে ওত পেতে থাকা ৫ থেকে ৬ জনের সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত দল অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা কোনো কথা না বলেই ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে তার পিঠে ৭টি এবং বাম হাতের তালুতে ১টিসহ মোট ৮টি ছুরিকাঘাতের গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
হামলার পর দুর্বৃত্তরা তার সঙ্গে থাকা বিকাশ ও নগদ লেনদেনের অর্থ, ইজিলোডের টাকা, অন্যান্য বিক্রির প্রায় ২ লাখ টাকা, ৪টি ছোট বাটন মোবাইল ফোন, প্রায় ২০ হাজার টাকার মোবাইল রিচার্জ কার্ড এবং একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার সময় আবু বক্করের সঙ্গে ছিলেন তার প্রতিবেশী রুবেল। হামলার দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনার পর টেকনাফ উপজেলা শহরে সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর টহল ও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মোঃ কামরুল ইসলাম 


















