Dhaka 6:45 am, Wednesday, 22 April 2026

দারিদ্র্য হার মানাতে পারেনি—পড়াশোনার স্বপ্নে ছোট্ট ব্যবসায় তরুণ আলমামুন

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:28:01 pm, Thursday, 9 April 2026
  • 6 Time View

বিশেষ প্রতিনিধি,শাহিনুর ইসলাম শাহীন:

গাজীপুরের কোনাবাড়ী পল্লী বিদ্যুতের সামনে একটি ছোট্ট টি-টেবিল। টেবিলের ওপর সাজানো অল্প কিছু চিপস—মোটামুটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পণ্য। এই সামান্য আয়োজনই এক তরুণের বড় স্বপ্নের গল্প বলে।
তিনি মোঃ আলমামুন, বিজিআইএফটি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের একজন ছাত্র। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসা। প্রতিদিন এই ছোট্ট দোকানেই বসেন তিনি, সংগ্রাম করেন নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।
আলমামুনের দেশের বাড়ি রাজশাহীতে। ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন বাবাকে। বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন মা এবং এক ভাই, যিনি চাকরি করে কোনোভাবে সংসার চালান। কিন্তু সংসারের সীমাবদ্ধতার কারণে তার পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না।
এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে থেমে যাননি আলমামুন। বরং নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন,
“পড়াশোনা এমন একটি সম্পদ, যা সবকিছু হারিয়ে গেলেও কখনো হারায় না। তাই যত কষ্টই হোক, আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।”
তার এই ছোট্ট দোকান শুধু আয়ের মাধ্যম নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। যেখানে অনেকেই হতাশায় থেমে যায়, সেখানে আলমামুন দেখিয়ে দিচ্ছেন—ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
সমাজের সচেতন মহল মনে করেন, এমন সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণ আজকের এই আলমামুনই হতে পারে আগামীর একজন সফল মানুষ, যে নিজের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দারিদ্র্য হার মানাতে পারেনি—পড়াশোনার স্বপ্নে ছোট্ট ব্যবসায় তরুণ আলমামুন

Update Time : 07:28:01 pm, Thursday, 9 April 2026

বিশেষ প্রতিনিধি,শাহিনুর ইসলাম শাহীন:

গাজীপুরের কোনাবাড়ী পল্লী বিদ্যুতের সামনে একটি ছোট্ট টি-টেবিল। টেবিলের ওপর সাজানো অল্প কিছু চিপস—মোটামুটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পণ্য। এই সামান্য আয়োজনই এক তরুণের বড় স্বপ্নের গল্প বলে।
তিনি মোঃ আলমামুন, বিজিআইএফটি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের একজন ছাত্র। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসা। প্রতিদিন এই ছোট্ট দোকানেই বসেন তিনি, সংগ্রাম করেন নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।
আলমামুনের দেশের বাড়ি রাজশাহীতে। ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন বাবাকে। বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন মা এবং এক ভাই, যিনি চাকরি করে কোনোভাবে সংসার চালান। কিন্তু সংসারের সীমাবদ্ধতার কারণে তার পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না।
এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে থেমে যাননি আলমামুন। বরং নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন,
“পড়াশোনা এমন একটি সম্পদ, যা সবকিছু হারিয়ে গেলেও কখনো হারায় না। তাই যত কষ্টই হোক, আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।”
তার এই ছোট্ট দোকান শুধু আয়ের মাধ্যম নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। যেখানে অনেকেই হতাশায় থেমে যায়, সেখানে আলমামুন দেখিয়ে দিচ্ছেন—ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
সমাজের সচেতন মহল মনে করেন, এমন সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণ আজকের এই আলমামুনই হতে পারে আগামীর একজন সফল মানুষ, যে নিজের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।