
মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বড়পই হাজীর মোড় এলাকায় মোবাইলফোন নিয়ে দ্বন্দ্বে এক যুবককে ছুরি উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ওই যুবকের দু’দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আহত যুবকের নাম আল আমিন মণ্ডল (২২)। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আল আমিনের বাবা মামুনুর রশীদ বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় অভিযোগ দেন। অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার আব্দুল রশীদ, আজাহার আলী, শহিদুল ইসলাম এবং নয়ন হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চারদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এ ঘটনার কোনো তদন্ত করেন নি। অভিযুক্তরা দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করছে। একই সঙ্গে মামলা না করতে ভিকটিম পরিবারকে হুমকির মুখে রেখেছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে এলাকার নারী-পুরুষের বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের গড়িমসি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বড়পই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, আহত আল আমিন তার ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন ৩৮০০ টাকায় অভিযুক্ত আব্দুর রশীদের কাছে বিক্রি করেন। ১৩ থেকে ১০ দিন পর আব্দুর রশীদ ফোনটি ফেরত দিয়ে আল আমিনের কাছে টাকা দাবি করে। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
প্রতিবেশি রেশমা বেগম বলেন, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আল আমিন হাজীর মোড় থেকে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ির কাছে পৌঁছামাত্র আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আব্দুর রশীদ, আহাজার আলী, শহিদুল ইসলাম ও নয়ন হোসেন পথরোধ করে লোহার রড ও শাবল দিয়ে মারধর করে। এ পর্যায়ে আব্দুর রশীদ তাকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে আল আমিন গুরুতর জখম হন। তার ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
আরেক প্রতিবেশি চম্পা খাতুন বলেন, আহত আল আমিনকে উদ্ধার করে মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দু’দফায় তার অপারেশন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি দেখছি, খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 



















