Dhaka 2:14 pm, Thursday, 23 April 2026

“পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি,আমি সাংবাদিক না”

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ মোঃ রেজাউল করিম রেজা:-

“জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?
সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম”—সাধারণ এক দোকানিকে করা এমন প্রশ্নেই রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম (৩০)।

নেট দুনিয়ায় তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই পরিচিত। তার সহজ-সরল উপস্থাপনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। চরম অভাব-অনটনের কারণে কোনো দিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। জীবিকার তাগিদে ঢাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করলেও ফাঁকে শখের বসে তৈরি করেন বিনোদনমূলক ভিডিও।

গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। ভিডিওতে গ্রাম্য ভাষায় দোকানির কাছে জানতে চান, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি না। তার প্রশ্ন করার ভঙ্গি ও সরল উপস্থাপনা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কাড়ে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ লাখ মানুষ দেখেছেন।

ভাইরাল হওয়ার আগে তার পেজে ফলোয়ার ছিল মাত্র ৬ হাজার, যা বর্তমানে ,২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
তাজু ভাইয়ের এই ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সারল্যের প্রশংসা করলেও, অনেকে আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন।
এ প্রসঙ্গে তাইজুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি পেশাদার সাংবাদিক না, তবে আমাদের চরাঞ্চলের খবর কেউ করে না বলে আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে নিয়ে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনেই। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে যে ভিডিওর মাধ্যমে এভাবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে, তা জেনে ভালো লাগছে।”
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তাইজুল ইসলাম এখন স্বপ্ন দেখছেন—তার এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের অভাব দূর করা এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের কথা সবার সামনে তুলে ধরার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বেনাপোলে অমানুষিক নির্যাতনের পর হত্যা,মরদেহ ফেলে গেল ধানক্ষেতে

“পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি,আমি সাংবাদিক না”

Update Time : 11:26:12 pm, Tuesday, 31 March 2026

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ মোঃ রেজাউল করিম রেজা:-

“জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?
সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম”—সাধারণ এক দোকানিকে করা এমন প্রশ্নেই রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম (৩০)।

নেট দুনিয়ায় তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই পরিচিত। তার সহজ-সরল উপস্থাপনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। চরম অভাব-অনটনের কারণে কোনো দিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। জীবিকার তাগিদে ঢাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করলেও ফাঁকে শখের বসে তৈরি করেন বিনোদনমূলক ভিডিও।

গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। ভিডিওতে গ্রাম্য ভাষায় দোকানির কাছে জানতে চান, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি না। তার প্রশ্ন করার ভঙ্গি ও সরল উপস্থাপনা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কাড়ে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ লাখ মানুষ দেখেছেন।

ভাইরাল হওয়ার আগে তার পেজে ফলোয়ার ছিল মাত্র ৬ হাজার, যা বর্তমানে ,২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
তাজু ভাইয়ের এই ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সারল্যের প্রশংসা করলেও, অনেকে আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন।
এ প্রসঙ্গে তাইজুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি পেশাদার সাংবাদিক না, তবে আমাদের চরাঞ্চলের খবর কেউ করে না বলে আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে নিয়ে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনেই। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে যে ভিডিওর মাধ্যমে এভাবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে, তা জেনে ভালো লাগছে।”
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তাইজুল ইসলাম এখন স্বপ্ন দেখছেন—তার এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের অভাব দূর করা এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের কথা সবার সামনে তুলে ধরার।