Dhaka 3:59 pm, Monday, 22 June 2026

বদলগাছীতে হাট ইজারা না হওয়ায় সরকারি রাজস্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন অতিরিক্ত খাজনা আদায় অসহায় কৃষক।

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:35:09 pm, Monday, 22 June 2026
  • 6 Time View

বদলগাছী নওগাঁ সংবাদাতা এনাম:-
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার হাট ইজারা না হওয়ায় সরকারি খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে নানান অনিয়ম, এবং সরকারি রাজস্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন জনমহলে ।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ও নেতারা,বর্তমান সরকারেও একই কৌশল কৃষকের কে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দাবি, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল খাজনা আদায় করছেন । এতে বর্তমান সরকারের রাজস্ব আদায় সহ অর্থের স্বচ্ছতা বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,উপজেলার বিভিন্ন জনমহলে ।
জানা যায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধিগ্রহণকৃত (গভঃ একোয়ার্ড স্টেট) বদলগাছী সদর হাট ও বাজার খাস আদায়ের আওতাভুক্ত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের লোকজন অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন কৃষক অসহায় । ফলে হাট পরিচালনা ও খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ্ট মণরাগের প্রশাসনের বিবেকহীনতা কর্মকান্ডে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ।
স্থানীয় লোকজন জানান, বদলগাছী উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রাইহান গিটারের অনুসারীরা হাটে বিভিন্ন খাত থেকে খাজনা আদায় করছেন। তবে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়নি। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে এবং আদায়কৃত অর্থের সরকারি হিসাব নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
অপরদিকে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ কৃষকের মুখে । কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলন থাকলেও বদলগাছী সদর হাট, গোবরচাপা হাটে,কোলাহাটে,ভান্ডারপুর হাটে,মিঠাপুর হাটে, ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হচ্ছে। এবং পাশাপাশি প্রতি মণে ২০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদেরকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন,
“আমার কাছ থেকে ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হয়েছে এবং প্রতি মণে ২০ টাকা খাজনা নেওয়া হলো। সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা না থাকায় তারা ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন।”
আরেকজন কৃষক আব্দুল মতিন বলেন,
“পণ্যের দাম কম, অথচ ৪২ কেজিতে মণ ধরে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছে না। আমরা কৃষক অসহায় লোকসানের মধ্যে সরকারের বিবেকবান কাউকে দেখিনা, কাকে বলি অসহায়ত্বের কথা ।
খাজনা আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবু আশারী নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান,
“হাটটি খাস আদায়ের আওতায় রয়েছে। তবে আবু রাইহান গিটার অফিস থেকে লীজ নিয়েছেন বলে আমরা জানি।
এ বিষয়ে আবু রাইহান গিটারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারংবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাক্ষাতে কথা বলবো বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।গতকাল
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে খাজনা আদায়ের সময় উপজেলা ও ভুমি অফিসের কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা খাজনা আদায় করছেন। হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনা বা মূল্য তালিকা টাঙ্গানো দেখা যায়নি ।
এ বিষয়ে খাস আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন,
“আমি ছোট কর্মচারী। খাস আদায় বা চার্ট টাঙ্গানো বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানাতে পারি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন হাট-বাজার ইজারা ও খাস আদায় সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইউএনও অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

উক্ত বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন,
“বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে। খাজনা আদায়ের সময় সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের খাজনা আদায়ের জন্য সহায়তা নিতে পারে ,
তিনি আরও বলেন অনিয়ম কোন ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই, এবং অনিয়ম বিষয়ে আমার জানা নেই।
তিনি আরও জানান, খাস আদায়ের দায়িত্বে সহকারী তহশিলদার রয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যে হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তবে স্থানীয় স্বচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নামমাত্র অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাঁকি রাজস্ব অর্থ থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। দুই মাসে কত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব হিসাব দিয়ে দিব।
বদলগাছী সদর হাটে খাস খাজনা আদায়, সরকারি রাজস্ব জমা এবং হাট পরিচালনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বদলগাছী উপজেলার অসহায় কৃষক সহ স্বচেতন মহল।
এনামুল কবীর এনাম বদলগাছী নওগাঁ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পার্টনার কংগ্রেস নামক ব্যাতিক্রমী প্রোগ্রাম, বিষমুক্ত দেশী ফল’র মেলা ও চারা রোপণ

বদলগাছীতে হাট ইজারা না হওয়ায় সরকারি রাজস্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন অতিরিক্ত খাজনা আদায় অসহায় কৃষক।

Update Time : 01:35:09 pm, Monday, 22 June 2026

বদলগাছী নওগাঁ সংবাদাতা এনাম:-
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার হাট ইজারা না হওয়ায় সরকারি খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে নানান অনিয়ম, এবং সরকারি রাজস্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন জনমহলে ।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ও নেতারা,বর্তমান সরকারেও একই কৌশল কৃষকের কে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দাবি, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল খাজনা আদায় করছেন । এতে বর্তমান সরকারের রাজস্ব আদায় সহ অর্থের স্বচ্ছতা বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,উপজেলার বিভিন্ন জনমহলে ।
জানা যায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধিগ্রহণকৃত (গভঃ একোয়ার্ড স্টেট) বদলগাছী সদর হাট ও বাজার খাস আদায়ের আওতাভুক্ত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের লোকজন অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন কৃষক অসহায় । ফলে হাট পরিচালনা ও খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ্ট মণরাগের প্রশাসনের বিবেকহীনতা কর্মকান্ডে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ।
স্থানীয় লোকজন জানান, বদলগাছী উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রাইহান গিটারের অনুসারীরা হাটে বিভিন্ন খাত থেকে খাজনা আদায় করছেন। তবে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়নি। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে এবং আদায়কৃত অর্থের সরকারি হিসাব নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
অপরদিকে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ কৃষকের মুখে । কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলন থাকলেও বদলগাছী সদর হাট, গোবরচাপা হাটে,কোলাহাটে,ভান্ডারপুর হাটে,মিঠাপুর হাটে, ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হচ্ছে। এবং পাশাপাশি প্রতি মণে ২০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদেরকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন,
“আমার কাছ থেকে ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হয়েছে এবং প্রতি মণে ২০ টাকা খাজনা নেওয়া হলো। সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা না থাকায় তারা ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন।”
আরেকজন কৃষক আব্দুল মতিন বলেন,
“পণ্যের দাম কম, অথচ ৪২ কেজিতে মণ ধরে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছে না। আমরা কৃষক অসহায় লোকসানের মধ্যে সরকারের বিবেকবান কাউকে দেখিনা, কাকে বলি অসহায়ত্বের কথা ।
খাজনা আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবু আশারী নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান,
“হাটটি খাস আদায়ের আওতায় রয়েছে। তবে আবু রাইহান গিটার অফিস থেকে লীজ নিয়েছেন বলে আমরা জানি।
এ বিষয়ে আবু রাইহান গিটারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারংবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাক্ষাতে কথা বলবো বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।গতকাল
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে খাজনা আদায়ের সময় উপজেলা ও ভুমি অফিসের কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা খাজনা আদায় করছেন। হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনা বা মূল্য তালিকা টাঙ্গানো দেখা যায়নি ।
এ বিষয়ে খাস আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন,
“আমি ছোট কর্মচারী। খাস আদায় বা চার্ট টাঙ্গানো বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানাতে পারি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন হাট-বাজার ইজারা ও খাস আদায় সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইউএনও অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

উক্ত বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন,
“বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে। খাজনা আদায়ের সময় সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের খাজনা আদায়ের জন্য সহায়তা নিতে পারে ,
তিনি আরও বলেন অনিয়ম কোন ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই, এবং অনিয়ম বিষয়ে আমার জানা নেই।
তিনি আরও জানান, খাস আদায়ের দায়িত্বে সহকারী তহশিলদার রয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যে হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তবে স্থানীয় স্বচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নামমাত্র অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাঁকি রাজস্ব অর্থ থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। দুই মাসে কত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব হিসাব দিয়ে দিব।
বদলগাছী সদর হাটে খাস খাজনা আদায়, সরকারি রাজস্ব জমা এবং হাট পরিচালনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বদলগাছী উপজেলার অসহায় কৃষক সহ স্বচেতন মহল।
এনামুল কবীর এনাম বদলগাছী নওগাঁ।