Dhaka 5:52 am, Tuesday, 15 September 2026

বাল্যবিবাহে কিশোরী মৃত্যুর হার বাড়ছে —১৩-১৪ বছর বয়সে বিয়ে মানে মৃত্যুর ফাঁদ

বাল্যবিবাহে কিশোরী মৃত্যুর হার বাড়ছে —১৩-১৪ বছর বয়সে বিয়ে মানে মৃত্যুর ফাঁদ

বিশেষ প্রতিনিধি শাহিনুর ইসলাম শাহীন

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (অবস্ এন্ড গাইনী) ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান এম.বি.বি.এস (রামেক), বি.সি.এস (স্বাস্থ্য), এম.এস (অবস্ এন্ড গাইনী) জানিয়েছেন বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের কারণে কিশোরী মায়েদের মৃত্যুর হার ভয়াবহভাবে বাড়ছে। সমাজের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কেবল বেআইনি নয়—বরং মেয়েদের জীবন এবং ভবিষ্যতের জন্য এক মারাত্মক বিপদ।

ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “এই বয়সের মেয়েদের শরীর ও মন তখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না। গর্ভধারণের মতো কঠিন শারীরিক পরিবর্তন তারা সহ্য করতে পারে না। এর ফলে রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পসিয়া, প্রসবজনিত জটিলতা এবং অনেক সময় মা ও নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও আত্মনির্ভরতার পথে বাধা সৃষ্টি করে। সমাজের উন্নয়নেও এটি এক বড় প্রতিবন্ধকতা।”

এসময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন,

> “ছেলেমেয়েদের গার্ডিয়ানদের এখনই সতর্ক হতে হবে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া মানে তাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে—বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচাতে হবে আমাদের কিশোরীদের।”

তিনি আরও বলেন, “যে অভিভাবক বা ব্যক্তি বাল্যবিবাহের প্রতিবাদ না করে বরং নিজের হাতে তা সম্পন্ন করে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। কেউ যেন এই অপরাধ করে পার না পায়।”

এসময় তিনি নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,

> “এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। প্রতিটি এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে, যেন কোনোভাবেই ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে না হয়। এটি শুধু আইন নয়—মানবতারও দাবি।”

ডাঃ মনিরুজ্জামান মনে করেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সচেতনতা, শিক্ষা ও আইনের প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়ই পারে সমাজকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মান্দায় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

বাল্যবিবাহে কিশোরী মৃত্যুর হার বাড়ছে —১৩-১৪ বছর বয়সে বিয়ে মানে মৃত্যুর ফাঁদ

Update Time : 02:59:48 pm, Wednesday, 29 October 2025

বাল্যবিবাহে কিশোরী মৃত্যুর হার বাড়ছে —১৩-১৪ বছর বয়সে বিয়ে মানে মৃত্যুর ফাঁদ

বিশেষ প্রতিনিধি শাহিনুর ইসলাম শাহীন

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (অবস্ এন্ড গাইনী) ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান এম.বি.বি.এস (রামেক), বি.সি.এস (স্বাস্থ্য), এম.এস (অবস্ এন্ড গাইনী) জানিয়েছেন বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের কারণে কিশোরী মায়েদের মৃত্যুর হার ভয়াবহভাবে বাড়ছে। সমাজের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কেবল বেআইনি নয়—বরং মেয়েদের জীবন এবং ভবিষ্যতের জন্য এক মারাত্মক বিপদ।

ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “এই বয়সের মেয়েদের শরীর ও মন তখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না। গর্ভধারণের মতো কঠিন শারীরিক পরিবর্তন তারা সহ্য করতে পারে না। এর ফলে রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পসিয়া, প্রসবজনিত জটিলতা এবং অনেক সময় মা ও নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও আত্মনির্ভরতার পথে বাধা সৃষ্টি করে। সমাজের উন্নয়নেও এটি এক বড় প্রতিবন্ধকতা।”

এসময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন,

> “ছেলেমেয়েদের গার্ডিয়ানদের এখনই সতর্ক হতে হবে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া মানে তাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে—বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচাতে হবে আমাদের কিশোরীদের।”

তিনি আরও বলেন, “যে অভিভাবক বা ব্যক্তি বাল্যবিবাহের প্রতিবাদ না করে বরং নিজের হাতে তা সম্পন্ন করে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। কেউ যেন এই অপরাধ করে পার না পায়।”

এসময় তিনি নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,

> “এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। প্রতিটি এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে, যেন কোনোভাবেই ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে না হয়। এটি শুধু আইন নয়—মানবতারও দাবি।”

ডাঃ মনিরুজ্জামান মনে করেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সচেতনতা, শিক্ষা ও আইনের প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়ই পারে সমাজকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে।