Dhaka 1:31 am, Wednesday, 22 April 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এস রহমান ফিলিং স্টেশনে ন্যায্যমূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:52:05 pm, Friday, 10 April 2026
  • 10 Time View

মস্ত মিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘর এলাকায় অবস্থিত একটি এস রহমান ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত সরকারি মূল্যে জ্বালানি না দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে গোপনে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়াও নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও এস রহমান ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। এমনকি প্রেস লেখা থাকা গাড়িগুলোকেও পূর্ণ পরিমাণে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের লাইনে দাঁড়াতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে শুরু করে সকাল ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও অনেক ক্রেতা জ্বালানি পান না। অথচ একই সময়ে অভিযোগ রয়েছে—যারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পেট্রোল বা ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ফিলিং স্টেশনটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিয়মিত এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। রুক মিয়া ও শাহ আলম মিয়াসহ কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে, যারা নাকি এই ঘুষ বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত।
ভুক্তভোগী একাধিক গাড়িচালক ও মোটরসাইকেল আরোহী জানান, জরুরি প্রয়োজনে জ্বালানি নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জ্বালানি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সাংবাদিকদের একাংশ জানান, তারা ঘটনাটি কাভার করতে গিয়ে নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এতে করে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পুরো বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এতে করে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের অনিয়ম যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী জনগণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টএস রহমান ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং গণমাধ্যমের কাজেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে জনস্বার্থে এই অনিয়মের অবসান এবং স্বচ্ছ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এস রহমান ফিলিং স্টেশনে ন্যায্যমূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ

Update Time : 09:52:05 pm, Friday, 10 April 2026

মস্ত মিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘর এলাকায় অবস্থিত একটি এস রহমান ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত সরকারি মূল্যে জ্বালানি না দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে গোপনে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়াও নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও এস রহমান ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। এমনকি প্রেস লেখা থাকা গাড়িগুলোকেও পূর্ণ পরিমাণে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের লাইনে দাঁড়াতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে শুরু করে সকাল ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও অনেক ক্রেতা জ্বালানি পান না। অথচ একই সময়ে অভিযোগ রয়েছে—যারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পেট্রোল বা ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ফিলিং স্টেশনটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিয়মিত এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। রুক মিয়া ও শাহ আলম মিয়াসহ কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে, যারা নাকি এই ঘুষ বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত।
ভুক্তভোগী একাধিক গাড়িচালক ও মোটরসাইকেল আরোহী জানান, জরুরি প্রয়োজনে জ্বালানি নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জ্বালানি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সাংবাদিকদের একাংশ জানান, তারা ঘটনাটি কাভার করতে গিয়ে নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এতে করে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পুরো বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এতে করে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের অনিয়ম যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী জনগণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টএস রহমান ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং গণমাধ্যমের কাজেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে জনস্বার্থে এই অনিয়মের অবসান এবং স্বচ্ছ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।