Dhaka 5:40 pm, Saturday, 13 June 2026

মাকে শেষদেখা দেখতে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরলেন প্রবাসী ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস চামেলী আক্তার:-

মায়ের মৃত্যু একজন সন্তানের জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়। আর সেই মাকে শেষবারের মতো দেখার আকুলতা নিয়ে হাজার মাইল দূরের প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া উত্তর-পশ্চিম পাড়ার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. নাজমুল হোসাইন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল হোসাইনের মা স্ট্রোকজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। প্রবাসের কর্মব্যস্ততা, দূরত্ব ও নানা জটিলতা সত্ত্বেও দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন, যেন জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে পারেন।

দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের নিথর দেহের সামনে দাঁড়াতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজমুল। মায়ের মরদেহ জড়িয়ে ধরে তার আহাজারি ও কান্নার দৃশ্য উপস্থিত স্বজন, প্রতিবেশী এবং এলাকাবাসীর হৃদয় স্পর্শ করে। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা অনেকের চোখে জল এনে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, নাজমুল একজন দায়িত্বশীল ও পরিবারপ্রেমী সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত মায়ের খোঁজখবর নিতেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল সবার কাছে প্রশংসনীয়। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস, মায়ের জীবনের শেষ মুহূর্তে তার পাশে থাকতে পারেননি তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মায়ের সঙ্গে নাজমুলের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত স্নেহময়। প্রবাসে থাকলেও প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। হঠাৎ মৃত্যুর সংবাদ তাকে ভীষণভাবে ভেঙে দিয়েছে। শেষ বিদায়ের মুহূর্তে তার চোখের জল যেন একজন সন্তানের সীমাহীন ভালোবাসা ও মাকে হারানোর অসহনীয় কষ্টেরই বহিঃপ্রকাশ।

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোকগাথা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী সন্তানের মনের কথাও তুলে ধরে। পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য যারা দূরদেশে সংগ্রাম করেন, তাদের কাছে প্রিয়জন হারানোর সংবাদ সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাময় বাস্তবতা।

এলাকাবাসী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বীরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আদিবাসী নারীর মৃত্যু

মাকে শেষদেখা দেখতে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরলেন প্রবাসী ছেলে

Update Time : 11:15:23 pm, Friday, 5 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস চামেলী আক্তার:-

মায়ের মৃত্যু একজন সন্তানের জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়। আর সেই মাকে শেষবারের মতো দেখার আকুলতা নিয়ে হাজার মাইল দূরের প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া উত্তর-পশ্চিম পাড়ার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. নাজমুল হোসাইন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল হোসাইনের মা স্ট্রোকজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। প্রবাসের কর্মব্যস্ততা, দূরত্ব ও নানা জটিলতা সত্ত্বেও দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন, যেন জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে পারেন।

দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের নিথর দেহের সামনে দাঁড়াতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজমুল। মায়ের মরদেহ জড়িয়ে ধরে তার আহাজারি ও কান্নার দৃশ্য উপস্থিত স্বজন, প্রতিবেশী এবং এলাকাবাসীর হৃদয় স্পর্শ করে। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা অনেকের চোখে জল এনে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, নাজমুল একজন দায়িত্বশীল ও পরিবারপ্রেমী সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত মায়ের খোঁজখবর নিতেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল সবার কাছে প্রশংসনীয়। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস, মায়ের জীবনের শেষ মুহূর্তে তার পাশে থাকতে পারেননি তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মায়ের সঙ্গে নাজমুলের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত স্নেহময়। প্রবাসে থাকলেও প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। হঠাৎ মৃত্যুর সংবাদ তাকে ভীষণভাবে ভেঙে দিয়েছে। শেষ বিদায়ের মুহূর্তে তার চোখের জল যেন একজন সন্তানের সীমাহীন ভালোবাসা ও মাকে হারানোর অসহনীয় কষ্টেরই বহিঃপ্রকাশ।

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোকগাথা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী সন্তানের মনের কথাও তুলে ধরে। পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য যারা দূরদেশে সংগ্রাম করেন, তাদের কাছে প্রিয়জন হারানোর সংবাদ সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাময় বাস্তবতা।

এলাকাবাসী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।