Dhaka 10:22 am, Tuesday, 4 August 2026

রাজবাড়ীতে মেয়ে দেখে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নদীতে ঝাপ পরদিন মিলল প্রবাসীর মরদেহ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে উপর্যুপরি কোপ খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া প্রবাসী আল আমিন (২৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা, কাজিরহাট নৌ-পুলিশ। আল আমিন পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের রামনারায়নপুর গ্রামের আবু বক্কর মন্ডলের ছেলে। শনিবার দুপুরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর আড়াই টার সময় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের রাখালগাছি সিএন্ডবি রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।  

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আল আমিন প্রায় ৭ বছর যাবৎ মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিল। গত ৪ মাস বাড়িতে ছুটিতে এসেছে। গত ১৫-১৬ দিন আগে শাহ আলী তার নিকট ৩ হাজার টাকা দাবি করে চা-টা খাওয়ার জন্য। আল আমিন টাকা না দেওয়ায় তাকে মোবাইলে গালিগালাজ করে এবং কথা কাটাকাটি হয়। শুক্রবার দুপুর আড়াই টার সময় পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের আল আমিন, তার মামা লিটন, বোন আকলিমা সহ ঢালার চর গ্রামের খৈয়মের মেয়েকে দেখতে আসে। দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে ফুফাতো ভগ্নিপতি মেগা সরদারকে সাথে নিয়ে আল আমিন মোটরসাইকেল যোগে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের রাখালগাছি বাজারে যায়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহ আলি, রবিউল, ঠান্ডু, জুয়েল ফকির, সেলিম সহ ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ৪ টি মোটরাইকেল যোগে আল আমিনের পিছু পিছু এসে রাখালগাছি বাজারের রাস্তার মাথায় পথরোধ করে। এসময় আল আমিনকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করলে প্রাণে বাঁচার জন্য পাশ্ববর্তী পদ্মার শাখা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ওঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সে নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের বিষয়টি পাবনার আমিনপুর, গোয়ালন্দ ঘাট থানা অবগত হলে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও কাজিরহাট নৌ পুলিশ স্পিড বোড ও ডুবুরি নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করে। পরে শনিবার দুপুরে তার মরদেহ রাখালগাছি খেয়াঘাটের পাশ থেকে উদ্ধার করে।  

গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে তার মরদেহ রাখালগাছি খেয়াঘাটের পাশে নদী থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।  

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বোয়ালিয়া মডেল থানা প্রাঙ্গণে ফলজ-বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ

রাজবাড়ীতে মেয়ে দেখে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নদীতে ঝাপ পরদিন মিলল প্রবাসীর মরদেহ

Update Time : 07:58:18 pm, Saturday, 26 April 2025

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে উপর্যুপরি কোপ খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া প্রবাসী আল আমিন (২৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা, কাজিরহাট নৌ-পুলিশ। আল আমিন পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের রামনারায়নপুর গ্রামের আবু বক্কর মন্ডলের ছেলে। শনিবার দুপুরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর আড়াই টার সময় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের রাখালগাছি সিএন্ডবি রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।  

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আল আমিন প্রায় ৭ বছর যাবৎ মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিল। গত ৪ মাস বাড়িতে ছুটিতে এসেছে। গত ১৫-১৬ দিন আগে শাহ আলী তার নিকট ৩ হাজার টাকা দাবি করে চা-টা খাওয়ার জন্য। আল আমিন টাকা না দেওয়ায় তাকে মোবাইলে গালিগালাজ করে এবং কথা কাটাকাটি হয়। শুক্রবার দুপুর আড়াই টার সময় পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের আল আমিন, তার মামা লিটন, বোন আকলিমা সহ ঢালার চর গ্রামের খৈয়মের মেয়েকে দেখতে আসে। দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে ফুফাতো ভগ্নিপতি মেগা সরদারকে সাথে নিয়ে আল আমিন মোটরসাইকেল যোগে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের রাখালগাছি বাজারে যায়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহ আলি, রবিউল, ঠান্ডু, জুয়েল ফকির, সেলিম সহ ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ৪ টি মোটরাইকেল যোগে আল আমিনের পিছু পিছু এসে রাখালগাছি বাজারের রাস্তার মাথায় পথরোধ করে। এসময় আল আমিনকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করলে প্রাণে বাঁচার জন্য পাশ্ববর্তী পদ্মার শাখা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ওঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সে নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের বিষয়টি পাবনার আমিনপুর, গোয়ালন্দ ঘাট থানা অবগত হলে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও কাজিরহাট নৌ পুলিশ স্পিড বোড ও ডুবুরি নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করে। পরে শনিবার দুপুরে তার মরদেহ রাখালগাছি খেয়াঘাটের পাশ থেকে উদ্ধার করে।  

গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে তার মরদেহ রাখালগাছি খেয়াঘাটের পাশে নদী থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।