
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ৫ নং সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি জমি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করা এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবিতে ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস এবং জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরে মানববন্ধনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে সরকারি জমি পরিমাপ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সরকারি জমি রক্ষার বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পাশাপাশি মাননীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। তবে তাদের দাবি, এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো উত্তর বা কার্যকর আশ্বাস তারা পাননি।
বক্তারা বলেন, “সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এগুলো জনগণের সম্পদ। অথচ দিনের পর দিন সরকারি জমি দখল হয়ে থাকলেও প্রশাসনের নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের জমি পরিমাপের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে যে, প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের পক্ষে অবৈধভাবে নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সময় এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আল মুক্তাদির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর প্রত্যক্ষ দায়িত্বাধীন নয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদক জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি জমি উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি জাতির প্রতি একটি নৈতিক অঙ্গীকার। জনগণের সম্পদ দখল ও লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে আইনের শাসন ও জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপই পারে জনমনে সৃষ্ট ক্ষোভ ও অনাস্থা দূর করতে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।সম্পাদনা-সংক্রান্ত পরামর্শ: যেহেতু “উৎকোচ গ্রহণ”, “অবৈধ নামজারি” এবং নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়গুলো প্রমাণিত নয়, তাই সংবাদে সেগুলোকে “অভিযোগ”, “স্থানীয়দের দাবি” বা “তাদের ভাষ্যমতে” হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে নিরাপদ ও পেশাদার হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















