Dhaka 6:22 am, Monday, 27 April 2026

লাখাইয়ে ভেজাল মসলার রমরমা ব্যবসা,মসলার রংয়ে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:27:30 pm, Saturday, 29 March 2025
  • 91 Time View

লাখাইয়ে ভেজাল মসলার রমরমা ব্যবসা,মসলার রংয়ে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার

এম ইয়াকুব হাসান অন্তর,লাখাই:

লাখাইয়ের আসন্ন ইদুল ফিতরকে সমানে রেখে বিভিন্ন হাট- বাজারে মরিচ এবং ধনিয়া ক্রসিং (গুঁড়া) মিলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভেজাল মসলার রমরমা বাণিজ্য। উপজেলার মসলার মিলের অসাধু মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এমন ক্যামিক্যাল মিশ্রিত মসলা তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র রমজান মাসে আসায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভেজাল সিন্ডিকেট চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ভোক্তারা জানান, উপজেলার অধিকাংশ মসলার মিলে ধানের তুষ, মুরগির ফিড, ইট ও কাঠের গুঁড়া, মটর ডাল, কাপড়ে ব্যবহৃত বিষাক্ত রং, দুর্গন্ধযুক্ত পটকা মরিচের গুঁড়া (নিম্নমানের মরিচ), আটা ময়দার তুসির সঙ্গে ক্ষতিকর রং এবং রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে বিভিন্ন রকম ভেজাল মসলা তৈরি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পুর্ববুল্লার শাহানা বেগম বলেন, আমি বুল্লাবাজারের এক ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে ২৫০গ্রাম গুড়ো মরিচ নিয়ে আসি রান্নাকরার সময় আমার সন্দেহ হলে চেক করি, তাহাতে ছোট ছোট ইটের কণা দেখতে পাই।
উপজেলার বুল্লাবাজারের একাধিক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানান,আমরা মিল থেকে সংগ্রহ করি।আমরা জানি উৎপাদনকারীরা তিনভাবে বাজারে ভেজাল মসল্য সরবারহ করে। কিছু বিক্রি করে প্যাকেট ছাড়া, কিছু বিক্রি করে সাধারণ প্যাকেটে, কিছু বিক্রি করে নামি-দামি মসলা কোম্পানিয় লেবেল লাগিয়ে। আর এসব ভেজাল মসলা কিনে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের এ ব্যাপারে তেমন নজরদারি নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব ব্যবসায়ীদের কাছে মসলা উৎপাদন ও বিক্রির নেই কোনো অনুমোদন। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সনদপত্র দিলে ভালভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হতো।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল মসলা উৎপাদনে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক ক্যামিক্যাল মিশ্রণের পাশাপাশি দেশের বাহির থেকে পশুপাখির খাদ্য হিসেবে আমদানি করা এক ধরনের ‘সিড’ বা বীজ গুঁড়া করে ভেজাল মসলা তৈরি করছেন। বীজের গুঁড়ার সঙ্গে অতিকর লাল রং ও কিছু মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে ভেজাল মরিচের গুঁড়া এবং হলুদ রং ও কিছু হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে ভেজাল হলুদের গুঁড়া তৈরি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি মসলার রং আকর্ষণীয় করতের বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল রং মেশানো হচ্ছে। গুঁড়া মরিচের এবং হলুদের রং আরও গাঢ় হয়, খুচরা বাজারে এসব ভেজাল মসলা কম দামে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা এসব কিনছেন। কিন্তু এসব গুঁড়ায় প্রাণঘাতী কেমিক্যাল ও ভেজাল আছে, সেটি তাদের অজানাই থেকে যায়। একজন ক্রেতা বলেন, ভেজাল গুঁড়া মসলায় বাজার কমদামে পাওয়ায় আমার মতো ভোক্তারা ভালো মন্দ না বুঝেই নিম্নমানের মসলা কিনছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর বিধান সোম বলেন , ভেজাল মসলা গুঁড়া খেলে পাকস্থলীতে নানা ধরনের জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যনালিতে আলসার, গ্যাস্টিক, ডায়রিয়া ও কিডনি নষ্ট করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভোলাহাট উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা

লাখাইয়ে ভেজাল মসলার রমরমা ব্যবসা,মসলার রংয়ে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার

Update Time : 10:27:30 pm, Saturday, 29 March 2025

লাখাইয়ে ভেজাল মসলার রমরমা ব্যবসা,মসলার রংয়ে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার

এম ইয়াকুব হাসান অন্তর,লাখাই:

লাখাইয়ের আসন্ন ইদুল ফিতরকে সমানে রেখে বিভিন্ন হাট- বাজারে মরিচ এবং ধনিয়া ক্রসিং (গুঁড়া) মিলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভেজাল মসলার রমরমা বাণিজ্য। উপজেলার মসলার মিলের অসাধু মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এমন ক্যামিক্যাল মিশ্রিত মসলা তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র রমজান মাসে আসায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভেজাল সিন্ডিকেট চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ভোক্তারা জানান, উপজেলার অধিকাংশ মসলার মিলে ধানের তুষ, মুরগির ফিড, ইট ও কাঠের গুঁড়া, মটর ডাল, কাপড়ে ব্যবহৃত বিষাক্ত রং, দুর্গন্ধযুক্ত পটকা মরিচের গুঁড়া (নিম্নমানের মরিচ), আটা ময়দার তুসির সঙ্গে ক্ষতিকর রং এবং রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে বিভিন্ন রকম ভেজাল মসলা তৈরি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পুর্ববুল্লার শাহানা বেগম বলেন, আমি বুল্লাবাজারের এক ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে ২৫০গ্রাম গুড়ো মরিচ নিয়ে আসি রান্নাকরার সময় আমার সন্দেহ হলে চেক করি, তাহাতে ছোট ছোট ইটের কণা দেখতে পাই।
উপজেলার বুল্লাবাজারের একাধিক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানান,আমরা মিল থেকে সংগ্রহ করি।আমরা জানি উৎপাদনকারীরা তিনভাবে বাজারে ভেজাল মসল্য সরবারহ করে। কিছু বিক্রি করে প্যাকেট ছাড়া, কিছু বিক্রি করে সাধারণ প্যাকেটে, কিছু বিক্রি করে নামি-দামি মসলা কোম্পানিয় লেবেল লাগিয়ে। আর এসব ভেজাল মসলা কিনে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের এ ব্যাপারে তেমন নজরদারি নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব ব্যবসায়ীদের কাছে মসলা উৎপাদন ও বিক্রির নেই কোনো অনুমোদন। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সনদপত্র দিলে ভালভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হতো।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল মসলা উৎপাদনে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক ক্যামিক্যাল মিশ্রণের পাশাপাশি দেশের বাহির থেকে পশুপাখির খাদ্য হিসেবে আমদানি করা এক ধরনের ‘সিড’ বা বীজ গুঁড়া করে ভেজাল মসলা তৈরি করছেন। বীজের গুঁড়ার সঙ্গে অতিকর লাল রং ও কিছু মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে ভেজাল মরিচের গুঁড়া এবং হলুদ রং ও কিছু হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে ভেজাল হলুদের গুঁড়া তৈরি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি মসলার রং আকর্ষণীয় করতের বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল রং মেশানো হচ্ছে। গুঁড়া মরিচের এবং হলুদের রং আরও গাঢ় হয়, খুচরা বাজারে এসব ভেজাল মসলা কম দামে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা এসব কিনছেন। কিন্তু এসব গুঁড়ায় প্রাণঘাতী কেমিক্যাল ও ভেজাল আছে, সেটি তাদের অজানাই থেকে যায়। একজন ক্রেতা বলেন, ভেজাল গুঁড়া মসলায় বাজার কমদামে পাওয়ায় আমার মতো ভোক্তারা ভালো মন্দ না বুঝেই নিম্নমানের মসলা কিনছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর বিধান সোম বলেন , ভেজাল মসলা গুঁড়া খেলে পাকস্থলীতে নানা ধরনের জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যনালিতে আলসার, গ্যাস্টিক, ডায়রিয়া ও কিডনি নষ্ট করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।