Dhaka 8:15 pm, Monday, 20 April 2026

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিএনপি নেতা মতিন হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:56:13 pm, Sunday, 19 April 2026
  • 4 Time View

মোস্তফা আল মাসুদ, বগুড়া জেলা সংবাদদাতা:

বিএনপি নেতা মতিন হত্যার ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রয়াত আব্দুল মতিন এর পরিবারের লোকজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
ছবি: দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা:-
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন (৬০) হত্যাকাণ্ডের ২৯ মাস অতিবাহিত হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের নাতি মাহিন এ দাবি জানান। তিনি বলেন, তার নানার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

লিখিত বক্তব্যে মাহিন জানান, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর আব্দুল মতিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ২৪ নভেম্বর সকালে ঝিনাইগাড়ী পুকুরপাড়ের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার ২৯ মাস পার হলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরং তদন্তের নামে তার মামা মিলন রহমানকে বারবার থানায় ডেকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আব্দুল মতিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার আগে ও পরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তারা জানান, হত্যার মাত্র আট দিন আগে, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন একটি গায়েবি মামলায় মতিনকে ৬৪ নম্বর আসামি করে। পরিবারের দাবি, শুরু থেকেই ঘটনাটিকে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আব্দুল মতিন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। বিগত সরকারের সময় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের তদন্তও রহস্যজনকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘একজন নাগরিককে হত্যার পর দীর্ঘ সময় বিচারহীন রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকারের আমলে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগম, মেয়ে মৌসুমী আক্তারসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের জোড় দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মনজুর আলম জানান, মামলার নথিপত্র নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিঃসঙ্গ হত্যা কান্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বগুড়া জেলা শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত আব্দুল মতিন এর পরিবারের সদস্যরা পূর্ণ তদন্তের জন্য এ দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভুগী প্রয়াত মতিউর রহমান মতিন এর পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লাখাইয়ে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষা শুরু।

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিএনপি নেতা মতিন হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

Update Time : 09:56:13 pm, Sunday, 19 April 2026

মোস্তফা আল মাসুদ, বগুড়া জেলা সংবাদদাতা:

বিএনপি নেতা মতিন হত্যার ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রয়াত আব্দুল মতিন এর পরিবারের লোকজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
ছবি: দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা:-
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন (৬০) হত্যাকাণ্ডের ২৯ মাস অতিবাহিত হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের নাতি মাহিন এ দাবি জানান। তিনি বলেন, তার নানার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

লিখিত বক্তব্যে মাহিন জানান, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর আব্দুল মতিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ২৪ নভেম্বর সকালে ঝিনাইগাড়ী পুকুরপাড়ের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার ২৯ মাস পার হলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরং তদন্তের নামে তার মামা মিলন রহমানকে বারবার থানায় ডেকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আব্দুল মতিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার আগে ও পরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তারা জানান, হত্যার মাত্র আট দিন আগে, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন একটি গায়েবি মামলায় মতিনকে ৬৪ নম্বর আসামি করে। পরিবারের দাবি, শুরু থেকেই ঘটনাটিকে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আব্দুল মতিন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। বিগত সরকারের সময় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের তদন্তও রহস্যজনকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘একজন নাগরিককে হত্যার পর দীর্ঘ সময় বিচারহীন রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকারের আমলে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগম, মেয়ে মৌসুমী আক্তারসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের জোড় দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মনজুর আলম জানান, মামলার নথিপত্র নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিঃসঙ্গ হত্যা কান্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বগুড়া জেলা শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত আব্দুল মতিন এর পরিবারের সদস্যরা পূর্ণ তদন্তের জন্য এ দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভুগী প্রয়াত মতিউর রহমান মতিন এর পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী।